বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির জাতীয় সম্মেলন

থাইরয়েড চিকিৎসায় উন্নত গবেষণা ও সচেতনতার তাগিদ

  • দ্রুত রোগ নির্ণয় ও উন্নত থাইরয়েড চিকিৎসায় বায়োমেডিকেল গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ
  • স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনে আধুনিক চিকিৎসার সুবিধার্থে দ্বিগুণ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে সরকার
  • সম্মেলনে ক্যান্সার ও গর্ভাবস্থায় জটিলতা নিয়ে ১২টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন

থাইরয়েড চিকিৎসায় উন্নত গবেষণা ও সচেতনতার তাগিদ
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৭  

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, হরমোনজনিত রোগের আধুনিক ডায়াগনস্টিকস এবং উন্নত চিকিৎসা গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) ৮ম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬। ৯ অক্টোবর, শুক্রবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের উদ্বোধনী অধিবেশনে রোগ প্রতিরোধ, নিখুঁত বায়োমার্কার ভিত্তিক দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি জানান, মানবদেহের শারীরিক বৃদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থির ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ রোগের জটিলতা প্রতিরোধ, দ্রুত স্ক্রিনিং ও সর্বাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বায়োমেডিক্যাল গবেষক এবং চিকিৎসকদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি থাইরয়েড সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও সচেতনতামূলক গবেষণায় সংসদীয় পর্যায়সহ ব্যক্তিগতভাবে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগের মেলবন্ধনে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত জীবনমান নিশ্চিতের আশাবাদ জানান তিনি।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত দুই বছর হামের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি থাকার কারণে জনস্বাস্থ্যে যে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিকায়নে ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ খাতে পূর্বের তুলনায় বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছেন, যার সুফল পাবে চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণা খাত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা এবং উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া মোসলেম।

দিনব্যাপী এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে আধুনিক আণবিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যান্সার থেরাপিউটিক্স, গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্য, আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা এবং কার্ডিওভাসকুলার জটিলতার ওপর বিশেষায়িত সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের তরুণ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের ১২টি মৌখিক গবেষণাপত্র এবং ১০টি বৈজ্ঞানিক পোস্টার উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের পর্দা নামে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।           //ডিবিটেক/এসএইচপিআর/এসএমপি/ডিপিও//