ক্যাম্পাসে ১৭তম দিনের আন্দোলন অব্যাহত
পুলিশ প্রস্তুত, তবু চুয়েটে যাননি নতুন ভিসি
- লিশি প্রটোকল প্রস্তুত থাকলেও চুয়েটে যাননি নতুন উপাচার্য
- নতুন ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে সব গেটে তালা দেন শিক্ষার্থীরা
- ভেতর থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে শিক্ষক-কর্মচারীরা
পুলিশি প্রটোকল প্রস্তুত থাকার পরও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) যাননি নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তার ক্যাম্পাসে যাওয়ার খবরে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি গেটে তালা দিয়ে পাহারা বসান। একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অবস্থান নেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে চুয়েটের উদ্দেশে শেখ শরীফুল আলমের রওনা হওয়ার কথা ছিল। তার সঙ্গে পুলিশের একাধিক প্রটোকল গাড়ি থাকার কথা ছিল। সকালে সার্কিট হাউসে পুলিশের দুটি গাড়ি দেখা গেলেও উপাচার্যকে নিয়ে সেগুলো বের হতে দেখা যায়নি। পরে জানা যায়, তিনি চুয়েটে যাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন উপাচার্যের সকালে চুয়েটে যাওয়ার কথা ছিল। পরে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তা বাতিল করেন। কেন তিনি যাননি, সে বিষয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা কিছু জানেন না বলে জানান।
তবে চুয়েটে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, তিনি গেলে সেখানেই থাকতেন। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে এখনো তার কথা হয়নি। শিক্ষকদের একটি সভা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, শিক্ষকরা তাদের সমিতির রেজ্যুলেশন বারবার পরিবর্তন করছেন। তবে তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন বলে জানান।
এদিকে নতুন উপাচার্যের আগমনের খবর পেয়ে চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাড়তি সতর্ক অবস্থান নেন। আন্দোলনের ১৭তম দিনে সকাল ৮টা থেকে তারা মূল ফটকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি প্রবেশপথে তালা দেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেটে পাহারা বসান। নতুন ভিসি ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেন তারা।
অন্যদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেন। দুপুর ১২টার দিকে তারা কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হন। সেখানে দাবি আদায়ের বিষয়ে তারা পুনরায় একমত হন।
বিকেলে চুয়েট শিক্ষক সমিতির দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাইরের কোনো শিক্ষককে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। চুয়েটের ভেতর থেকেই জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের একটি সাধারণ সভা হয়েছে। সভায় সবাই দাবির বিষয়ে একমত হয়েছেন। চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে তারা চান না।
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, তাদের দাবি একটাই—অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে বৃহস্পতিবার উপাচার্যের ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের বৃহস্পতিবার চুয়েটে আসার কথা ছিল। এ ধরনের একটি কর্মসূচি থাকলেও বুধবার রাতেই তিনি তা বাতিল করেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম চুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তিনি কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছেন।
//ডিবিটেক/সিইএইচ/এসএমপি/এমএসআই//





