হাতের মুঠোয় বিও হিসাব ও পোর্টফোলিও
অক্টোবরে সিডিবিএলের মোবাইল অ্যাপ
- অক্টোবরে চালুর লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে সিডিবিএলের নতুন মোবাইল অ্যাপ
- অ্যাপে বিও হিসাব, পোর্টফোলিও, লেনদেন ও নোটিফিকেশন দেখা যাবে
- তথ্যনিরাপত্তা বাড়াতে হার্ডওয়্যার, প্রযুক্তি ও ডিজাস্টার রিকভারি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করছে সিডিবিএল
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ও পোর্টফোলিও এখন আরও সরাসরি হাতের নাগালে আনতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। অক্টোবরেই চালুর লক্ষ্য নিয়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা নতুন মোবাইল অ্যাপে হিসাবের তথ্য, লেনদেন ও নোটিফিকেশন এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের তথ্য সুরক্ষা, নির্ভুলতা ও সেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সিডিবিএল হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করছে।
‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে ৭ অক্টোবর, বুধবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানান সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মোতালেব। সিডিবিএল ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যে অক্টোবরজুড়ে ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক’ পালিত হচ্ছে; ২০২৬ সালের বৈশ্বিক কর্মসূচির অন্যতম বিষয় ডিজিটাল প্রতারণা ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা।
সিডিবিএলের এমডি জানান, নতুন মোবাইল অ্যাপটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি অক্টোবরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালুর চেষ্টা চলছে। অ্যাপের মাধ্যমে একজন বিনিয়োগকারী তার বিও বা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স হিসাবের বিস্তারিত তথ্য এবং পোর্টফোলিও সরাসরি দেখতে পারবেন।
তিনি জানান, বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীর হিসাবে ডেবিট বা অন্য কোনো লেনদেন হলে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য জানানো হয়। একই ধরনের নোটিফিকেশন নতুন অ্যাপেও পাওয়া যাবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই জানতে পারবেন।
মো. আব্দুল মোতালেব জানান, বিনিয়োগকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির আধুনিকায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিডিবিএলের পুরোনো হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবস্থা পরিবর্তন করে দ্রুত, নিরাপদ ও শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সিডিবিএল। এ জন্য ব্রোকার ও ডিপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিও হিসাবের মোবাইল নম্বর, ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। তথ্য সঠিক থাকলে লভ্যাংশ ও অন্যান্য সুবিধা প্রকৃত বিনিয়োগকারীর কাছে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে জালিয়াতির সুযোগও কমবে।
সিডিবিএলের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজার বিও হিসাব রয়েছে। প্রায় ৫৬০টি ডিপির মাধ্যমে এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিও হিসাবের বিপরীতে একজন বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যিনি নিজের সঞ্চয় নিয়ে পুঁজিবাজারে এসেছেন। তাই তাদের সম্পদ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিডিবিএলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এ ছাড়া সিডিবিএলের একটি ডিজাস্টার রিকভারি বা ডিআর সাইট স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে এটি চালু হতে পারে বলে জানান সিডিবিএলের এমডি।
সেমিনারে বিনিয়োগকারীদের অনলাইন প্রতারণা ও গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মো. আব্দুল মোতালেব। বিনিয়োগের আগে তথ্য যাচাই, ঝুঁকি বোঝা এবং বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
//ডিবিটেক/ডিপিও/এসএমপি/এমআইএস//





