কিশোরদের সুরক্ষায় মেটার ওপর নতুন কড়াকড়ি চায় ফ্লোরিডা
কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরাশক্তি মেটা প্ল্যাটফর্মসের ওপর সরাসরি বিধিনিষেধ আরোপে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য।
অঙ্গরাজ্যটির পাসকো কাউন্টি আদালতে পেশ করা এক জরুরি আবেদনে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মাধ্যম- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডার আবেদনের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে- ১৪ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট অপসারণ করা, কিশোর বয়সিদের জন্য মেটার সব অ্যাপ মিলিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ব্যবহারের সময়সীমা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করা এবং স্বয়ংক্রিয় প্লে বা ‘ইনফিনিট স্ক্রোল’-এর মতো আসক্তিকর ফিচার বন্ধ রাখা।
১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান
এর আগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি (১৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বিনিময়ে মামলার সমঝোতা করেছিল মেটা। তবে ফ্লোরিডা যৌথ সমঝোতার সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়।
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতে, বিপুল অর্থ পরিশোধের এই চুক্তি মেটার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে কেবল 'ব্যবসার খরচ' ছাড়া আর কিছুই নয় এবং অর্থ দিয়ে তাদের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
তাই আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মেটাকে কঠোর শর্ত পালনে বাধ্য করতে চায় অঙ্গরাজ্যটি। নতুন আবেদনে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কিশোরদের বার্তা আদান-প্রদান (মেসেজিং) বন্ধ রাখা এবং তাদের কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন না দেখানোর জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।
মেটার প্রতিক্রিয়া ও অনড় ফ্লোরিডা
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার এই নতুন আইনি পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, বাকি সব অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতার পর ফ্লোরিডার উচিত ছিল ইউটিউব ও টিকটকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে কিশোরদের সুরক্ষায় মনোযোগ দেওয়া।
মেটার দাবি, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে তারা দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে এবং ফ্লোরিডার সাময়িক বিধিনিষেধের এই আবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তবে মেটার আবেদনে কান না দিয়ে নিজেদের অভিযোগে অনড় রয়েছে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ। মূল মামলা চলাকালীনই আদালত থেকে এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ আদায়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





