সবুজ কর্মসংস্থান ও ক্ষতিপূরণে অবস্থানপত্র প্রকাশ
জলবায়ু নীতিতে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণের আহ্বান
- জাতীয় জলবায়ু নীতিমালায় তরুণ প্রজন্মের কার্যকর অংশীদারিত্ব নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
- তিন শতাধিক তরুণের যৌথ মতামতে প্রণীত জাতীয় জলবায়ু অবস্থানপত্র সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর
- আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে এ অবস্থানপত্র বাংলাদেশের তরুণদের দাবির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে
পরিবেশ বিজ্ঞান ও টেকসই প্রযুক্তিনির্ভর জলবায়ু অভিযোজন কৌশলে তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের মতামত ও বিজ্ঞানভিত্তিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে জলবায়ু নীতি প্রণয়ন করতে হবে; একই সঙ্গে জলবায়ু মোকাবিলায় তরুণদের উদ্যোগ ও নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে হবে।
১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী ‘তরুণদের স্থানীয় সম্মেলন বাংলাদেশ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩০০ তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে প্রণীত জাতীয় তরুণ জলবায়ু অবস্থানপত্র প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তীতে এটি সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
নুরুল ইসলাম মনি জানান, সরকার তরুণদের স্বাগত জানায়। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে তরুণরা আরও সোচ্চার হোক এবং নিজেদের মতামত ও উদ্যোগের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখুক; সরকার তাদের পাশে থাকবে।
ড. সাইমুম পারভেজ জানান, সারা দেশের তরুণদের তৈরি এই অবস্থানপত্রকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তরুণদের জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলো সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ জায়গায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে এবং এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সব সময় তরুণদের সহযোগিতা করবে।
সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, পরিবেশবান্ধব সবুজ কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এসব বিষয়ে তরুণেরা তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এবং ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাইদুর রহমান সিয়াম।
ব্রাইটার্সের চেয়ার ফারিয়া সুলতানা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর আয়োজন করা হয়। ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনসহ ৩০টি যুব সংগঠন এতে সহযোগিতা করে। আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল অ্যাকশনএইড, কেয়ার, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ।
দেশের বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তরুণদের অংশগ্রহণে প্রণীত এই অবস্থানপত্র আগামী আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণদের অগ্রাধিকার, প্রযুক্তিগত দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/ডিবিএফ/বিভি/পিসি//





