গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে বাজেট সেমিনার; প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত বিনিয়োগের আহ্বান
জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রতিযোগিতামূলক ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা। গ্রিন ইউনিভার্সিটির গ্রিন বিজনেস স্কুল আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা সেমিনারে বক্তারা এ তাগিদ দেন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও প্রতিযোগিতামূলক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের সংকট কাটাতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। ৭ জুলাই, মঙ্গলবার গ্রিন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন বিজনেস স্কুল (জিবিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭: পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুশাসনকে জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। সেমিনারে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লার্নিং অ্যান্ড টিচিং ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির প্রযুক্তির বিষয়টিকে সামনে এনে বলেন, ‘বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতামূলক টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষায় সরকারি-বেসরকারি বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’ এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে একটি কার্যকর ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে কার্যকর প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি ড. ফাহমিদা খাতুন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যায়ের হিসাব নয়; এটি দেশের উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন। এ ধরনের প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক অ্যাকাডেমিক সংলাপ শিক্ষার্থীদের নীতি বিশ্লেষণ ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বিকাশে ভূমিকা রাখে।
সেমিনারের শুরুতে বিবিএ শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন আবির ও তাহমিদ ফেরদৌস জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এর ওপর একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বাজেটের সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিনির্ভর চ্যালেঞ্জ নিয়ে অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
//ডিবিটেক/ইকেটিএন/এমআই//





