স্থানীয় গল্পে ডিজিটাল ব্র্যান্ড

শখ থেকে আয়ের পথে দুই নির্মাতা

  • বিশেষায়িত দক্ষতা ও শখকে আয়মুখী উদ্যোগে রূপ দিচ্ছেন বাংলাদেশের নির্মাতারা
  • খাবার ও ক্ষুদ্রশিল্পের গল্পে তৈরি হচ্ছে নিবেদিত ডিজিটাল সম্প্রদায়
  • স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং যুক্ত করছেন তরুণ নির্মাতারা

শখ থেকে আয়ের পথে দুই নির্মাতা
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৫  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদন বা যোগাযোগের জায়গা নয়; বিশেষায়িত দক্ষতা, শখ ও সৃজনশীলতাকে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড এবং আয়ের উৎসে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের নির্মাতা ফেরদৌসি জলিল ও শেখ আহিয়া জান্নাত জোনির কাজ দেখাচ্ছে, নির্দিষ্ট দর্শকের জন্য স্থানীয় গল্প, দক্ষতা ও দৃশ্যমান উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করে কীভাবে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা যায়।

অনলাইন মিষ্টান্ন উদ্যোগ

ফেরদৌসি জলিলের @jalilskitchen-এর যাত্রার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পরিচিত একটি বিষয়—ঘরে তৈরি খাবার। ঢাকাভিত্তিক এই উদ্যোগে তৈরি করা হয় অর্ডার অনুযায়ী কেক, ব্রাউনি ও বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য।

তার তৈরি খাবারে স্বতন্ত্র স্বাদ ও উপকরণের ব্যবহার রয়েছে, যা অন্য অনেক বেকারি উদ্যোগের ভিড়ে তাকে আলাদা করে তুলেছে। আকর্ষণীয়ভাবে কেক ও মিষ্টান্ন উপস্থাপন এবং প্রতিটি ভিডিওতে গল্প বলার ধরন তার কনটেন্টকে টিকটকের খাদ্যপ্রেমী দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

ফলোয়ারদের মন্তব্যেরও সরাসরি উত্তর দেন তিনি। যারা তার তৈরি খাবার চেষ্টা করেছেন, তাদের অনেকে তার আগ্রহ, মান ও স্বাদের প্রশংসা করেছেন। নেতিবাচক মন্তব্যের ক্ষেত্রেও তার সরাসরি প্রতিক্রিয়া অনুসারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে।

হাজারো অনুসারী ও লাইক পাওয়া এই কনটেন্ট ধীরে ধীরে তার ব্র্যান্ডকে একটি বিশেষায়িত মিষ্টান্ন উদ্যোগে পরিণত করেছে। শুধু খাবার বিক্রির মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি; অনলাইনে কেক তৈরির কোর্সও পরিচালনা করছেন। ফলে তার দর্শকদের একটি অংশ শিক্ষার্থী হিসেবেও যুক্ত হচ্ছে।

বেকিং এবং কনটেন্ট তৈরির নিজস্ব পদ্ধতি তাকে একটি সক্রিয় ও সম্পৃক্ত অনলাইন সম্প্রদায় গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

জোনির ক্ষুদ্র জগত

শেখ আহিয়া জান্নাত জোনি ব্যক্তিগত শখকে সৃজনশীল ব্যবসায় রূপ দিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব বিষয়কে ক্ষুদ্রাকৃতির শিল্পকর্মে তুলে ধরে। তিনি বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বস্তু ও দৃশ্যের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ত্রিমাত্রিক ক্ষুদ্র মডেল তৈরি করেন।

তার @colormylife52 পেজে এসব কাজের বিস্তারিত দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে তৈরি করা ক্ষুদ্র মডেলের পাশাপাশি সেগুলো তৈরির পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে ছোট ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।

এসব ভিডিওতে দর্শক দেখতে পান কীভাবে পরিচিত ভবন, যানবাহন, বিভিন্ন বস্তু ও দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্যকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ক্ষুদ্র সংস্করণে রূপ দেওয়া হচ্ছে। এই উপস্থাপনার মাধ্যমে তার কনটেন্টে সৃজনশীলতার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, গ্রামীণ পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদান যুক্ত হয়েছে।

বড় একটি দর্শকগোষ্ঠীর কাছে তার কাজ দেখিয়েছে, বিশেষায়িত কোনো সৃজনশীল আগ্রহও কীভাবে শক্তিশালী ডিজিটাল ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে। কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি তিনি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড অর্ডারও গ্রহণ করেন।

বাস্তব জীবনের ভবন, যানবাহন ও বিভিন্ন দৃশ্য গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষুদ্র মডেলে পুনর্নির্মাণ করতে পারেন তিনি। ফলে একটি ব্যক্তিগত শখ ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তার কাজের ঘনিষ্ঠ সংযোগও বজায় রয়েছে।

ফেরদৌসি জলিল ও জোনির কাজ ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরির দুটি ভিন্ন পথ তুলে ধরে—একজন খাবারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, অন্যজন শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিচিত দৃশ্যকে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করছেন।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নির্মাতা অর্থনীতিতে তাদের অভিজ্ঞতা দেখায়, সফল হতে সবসময় সবার জন্য কনটেন্ট তৈরি করার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট একটি দর্শকগোষ্ঠীর জন্য অর্থবহ ও স্বতন্ত্র কিছু তৈরি করেও একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পরিচয় এবং আয়মুখী উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব।

তাদের কাজ তরুণদের জন্যও একটি বার্তা বহন করছে—নিজস্ব প্রতিভা, দক্ষতা ও শখকে সঠিকভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন করতে পারলে সেটিই ভবিষ্যতে আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে।

//ডিবিটেক/এমএমএসি/এসএমপি/ডিপিও//