সেনাবাহিনীর কাছে জলিল টেক্সটাইল মিল হস্তান্তর
প্রতিরক্ষা শিল্পে ড্রোন প্রযুক্তি ও রফতানি সম্প্রসারণ
- আধুনিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ড্রোন প্রযুক্তি ও নিজস্ব গবেষণা-উন্নয়নে জোর
- ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণে জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
- প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ
জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি সামরিক শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলে বৈশ্বিক রফতানি সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৭ আগস্ট, ২০২৬ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাটির জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। গত দুই-তিন দশকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে রূপান্তর শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষত তুলনামূলক কম ব্যয়ে আধুনিক উদ্ভাবন ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার সামরিক সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রচলিত বিপুল গোলাবারুদ মজুতের ধারণার পরিবর্তে এখন ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জামের দিকে যেতে হবে। বিশ্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলে প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির পথ সুগম করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার অংশ হিসেবে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, অবস্থানগত কারণে এই জমি বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের সুযোগ বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান।
চুক্তিতে বিটিএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসার মিসেস সাজিয়ে তাহের স্বাক্ষর করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/বিএনওসি/এমআইএস/এসএমই//





