সাশ্রয়ী তরঙ্গ চায় বাংলালিংক
- তরঙ্গ ব্যয় কমিয়ে নেটওয়ার্ক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বাংলালিংকের
- শতভাগ ৪জি কাভারেজের পর নির্দিষ্ট এলাকায় ৫জি চালুর পরিকল্পনা
- অতিরিক্ত তরঙ্গমূল্য ডিজিটালাইজেশন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাধা দেবে
স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের অতিরিক্ত ব্যয় টেলিকম খাতের পরিচালন ও বিনিয়োগ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জোহান বুসে। তিনি বলেন, তরঙ্গের মূল্য যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী হলে অপারেটরদের আর্থিক চাপ কমবে এবং সেই অর্থ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।
টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদ উল বারী।
জোহান বুসে বলেন, টেলিকম অবকাঠামোতে একজন অপারেটরকে সাধারণত মোট রাজস্বের প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক মূলধনী বিনিয়োগ (ক্যাপেক্স) করতে হয়। ফলে তরঙ্গ অর্জনে অতিরিক্ত ব্যয় হলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, তরঙ্গের দাম যুক্তিসঙ্গত হলে অপারেটরদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা কমবে। এতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৪জি ও ৫জি সেবার মান সরাসরি উন্নত করা সম্ভব হবে। তরঙ্গ কেনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিবর্তে সেই অর্থ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও টেলিকম খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত তরঙ্গ বরাদ্দ করা গেলে দেশের ডিজিটালাইজেশনের গতি বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে।
শতভাগ ৪জি আগে, নির্দিষ্ট এলাকায় ৫জি
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, দেশের ৪০ শতাংশের বেশি এলাকায় এখনো ৪জি নেটওয়ার্ক কাভারেজ নেই। এই বাস্তবতায় দ্রুত দেশজুড়ে ৫জি চালুর পরিবর্তে আগে শতভাগ ৪জি কাভারেজ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে বাংলালিংক।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ও শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ৫জি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তাইমুর রহমান বলেন, অতীতে সব প্রজন্মের প্রযুক্তি বাজারে সফলভাবে টিকে থাকেনি। ১জি ও ৩জির মতো প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ৫জি চালুর ক্ষেত্রেও অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তার মতে, ৫জি বা ভবিষ্যতের ৬জি প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন কাভারেজ ও বড় নেটওয়ার্ক সক্ষমতা। এজন্য বিপুল পরিমাণ তরঙ্গ প্রয়োজন হবে।
রাজস্বের ১৮ শতাংশ তরঙ্গে
তাইমুর রহমান উচ্চ তরঙ্গমূল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের অপারেটরদের কম গড় গ্রাহকপ্রতি আয় বা এআরপিইউর বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের মতো একই দামে অপারেটরদের প্রযুক্তি সরঞ্জাম ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক উপকরণ কিনতে হয়। অথচ বাংলাদেশের এআরপিইউ বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অপারেটরদের মোট রাজস্বের প্রায় ১৮ শতাংশ স্পেকট্রাম কেনা ও নবায়নে ব্যয় হচ্ছে, যা উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় অত্যন্ত বেশি।
দক্ষিণ এশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তাইমুর রহমান বলেন, পাকিস্তান সম্প্রতি নিলামে তরঙ্গের দাম ৫০ শতাংশের বেশি কমিয়েছে। ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে প্রতি মেগাহার্টজ ৬ মিলিয়ন ডলার এবং ২৩০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে তরঙ্গ বরাদ্দের পর সেখানে অপারেটররা ৪৮০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম কিনেছে। এর ফলে দেশটির ৪জি গতি ও ৫জি সম্প্রসারণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি
সরকারের উদ্দেশে তাইমুর রহমান বলেন, স্পেকট্রাম বিক্রি থেকে তাৎক্ষণিক রাজস্ব বাড়ানোর সরকারি লক্ষ্য বোধগম্য। তবে অতিরিক্ত মূল্যের কারণে অপারেটররা প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম কিনতে বা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সক্ষম না হলে দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, তরঙ্গমূল্য কমিয়ে নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হলে গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে, ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশই বেশি লাভবান হবে।
//ডিবিটেক/ আইএইচ/ এমআইএস//





