- টেলিকমকে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান
- স্বচ্ছ নিলাম ও দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি
তরঙ্গ, রাজস্ব ও শুল্কে সমন্বিত নীতি চায় গ্রামীণফোন
স্পেকট্রাম, রাজস্ব ও শুল্ক কাঠামোকে আলাদা আলাদাভাবে না দেখে পুরো টেলিযোগাযোগ খাতকে একটি ‘সমন্বিত লেন্সে’ মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে টেলিকম খাতের চলমান সংলাপ এবং ইতিবাচক বার্তা বিনিময় পারস্পরিক আস্থা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন।
টেলিযোগাযোগ খাতের কৌশলগত রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি স্পেকট্রামের মূল্য, করপোরেট কর, রাজস্ব ভাগাভাগি ও গ্রাহক পর্যায়ের পরোক্ষ শুল্ককে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান।
তিনি বলেন, বিদেশের উদাহরণ অনুসরণ না করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে টেলিকম খাতের টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে। তার ভাষায়, “স্পেকট্রাম কি সরকারের এককালীন রাজস্ব আয়ের হাতিয়ার নাকি ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি?”—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও সমন্বিত উত্তর খোঁজা এখন সময়ের দাবি।
ইয়াসির আজমান বলেন, টেলিকম খাত এখন আর শুধু প্রচলিত ভয়েস বা ডাটা বিক্রির একটি ‘ভার্টিক্যাল’ ব্যবসা নয়। এটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ওটিটি, ই-কমার্স, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন খাতের মূল ভিত্তি বা ‘হরিজন্টাল এনাবলার’-এ পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও উচ্চগতির ও কম-লেটেন্সির কানেক্টিভিটির প্রভাব ব্যাপক। এটি শুধু বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর নয়; প্রত্যন্ত অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করে কীভাবে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন, তারও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে উচ্চ ৪০ শতাংশ করপোরেট কর, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং গ্রাহক পর্যায়ের অপ্রত্যক্ষ শুল্ককে আলাদা বিষয় হিসেবে না দেখে স্পেকট্রামের মূল্যের সঙ্গে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি দেশের প্রতিটি খাতের চালিকাশক্তি হওয়ায় স্পেকট্রাম নীতির যেকোনো সংস্কার পুরো অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি আনতে পারে বলে মত দেওয়া হয়।
স্বচ্ছ স্পেকট্রাম নিলাম, দ্রুত নেটওয়ার্ক রোলআউট এবং টেকসই টেলিকম নীতির দাবি জানিয়ে গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, সম্প্রতি অর্জিত ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড গ্রামীণ অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলের কনজেশন বা সিগন্যাল সমস্যা কমাতে ইতোমধ্যে বড় পরিসরে সক্রিয় করা হয়েছে।
সম্প্রতি সিম অ্যাকুইজিশন ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারে বিটিআরসি ও সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করে তানভীর মোহাম্মদ বলেন, এসব পদক্ষেপ গ্রাহকদের সেবার সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি অপারেটরদের নেটওয়ার্কে বিনিয়োগের সক্ষমতা তৈরি করবে।
টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে টেলিকম খাতের এই এসএমপি অপারেটর নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। সংগঠনের সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদ উল বারী।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআইএস//





