স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা চান বিশেষজ্ঞরা

  • স্পেকট্রামের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণে স্বচ্ছতা দাবি
  • ৪০ শতাংশের বেশি তরঙ্গ অবিক্রীত
  • যৌক্তিক মূল্যায়ন কাঠামো সংস্কারের পরামর্শ

স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা চান বিশেষজ্ঞরা
১৫ আগষ্ট, ২০২৬ ১২:১৬  

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, নিলামে অবিক্রীত তরঙ্গ এবং অপারেটরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরঙ্গ নিলামে ন্যূনতম মূল্য বা রিজার্ভ প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন গাণিতিক ও বিশ্লেষণাত্মক ভিত্তি অনুসরণ করা হয়েছে, তার স্বচ্ছ ও জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য নথি থাকা জরুরি।

১৫ অক্টোবর, শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্পেকট্রামের যথাযথ ব্যবহার, মূল্যায়ন কাঠামো এবং টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যবসায়িক বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরা হয়।

টেলিকম বিশেষজ্ঞ মুনির হাসান বলেন, ডেটা হচ্ছে ডিজিটাল সংযোগের অক্সিজেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪১ দশমিক ৭২ এমবিপিএস গতির মোবাইল ডেটা নিয়ে ১০৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম।

তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে মাথাপিছু ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ ১ দশমিক ১ জিবি থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৪ জিবিতে উন্নীত হয়েছে। তবে স্পেকট্রামের উচ্চ মূল্যের কারণে দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ এখনো অফলাইনে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশে স্পেকট্রামের মূল্য বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

মুনির হোসেন হাসান বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পাঁচবার স্পেকট্রাম নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও ৪০ শতাংশের বেশি তরঙ্গ বিক্রি হয়নি। প্রতিযোগিতার অভাবে ‘গোল্ডেন স্পেকট্রাম’ হিসেবে পরিচিত ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের ৬০ শতাংশ তরঙ্গও অবিক্রীত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্পেকট্রাম মূল্যায়ন কাঠামো সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, নেটওয়ার্ক অর্থনীতি, ব্যবসায়িক অর্থনীতি এবং বাজারের প্রমাণভিত্তিক তথ্যকে বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এমটব মহাসচিব মোঃ জুলফিকার বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত স্পেকট্রাম নিলামে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণের স্বচ্ছতা, অবিক্রীত তরঙ্গের ব্যবসায়িক প্রভাব এবং অপারেটরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে জোরালো আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিগত বছরের নিলামগুলোতে কোন গাণিতিক বা বিশ্লেষণাত্মক ভিত্তির ওপর ন্যূনতম মূল্য বা রিজার্ভ প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার স্পষ্ট পাবলিক ডকুমেন্টেশন থাকা জরুরি।

স্বাগত বক্তব্যে টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, সব অপারেটরের মধ্যে স্পেকট্রামের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন এবং ইজিএসএমের মতো বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার লক্ষ্যেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি অ্যান্ড টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদ উল বারী, এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জোহান বুসে এবং টেলিকম বিশেষজ্ঞ টিআইএম নুরুল কবির। এছাড়াও গ্রামীণফোন চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, বাংলালিংক চিফকর্পোরেট অফিসার তাইমুর রহমান  এবং রবি’র কোম্পানি সচিব সাহেদ আলম বক্তব্য রাখেন।  

//ডিবিটেক/আইএইচ/এমএসআই//