বিজ্ঞান-কারিগরিতে কমল এসএসসি পাস, দক্ষতা শিক্ষায় নতুন প্রশ্ন

বিজ্ঞানে পাস ৮০.৬৪ শতাংশ, ভোকেশনালে ৫৮.২০ শতাংশ

  • বিজ্ঞানে পাস ৮০.৬৪ শতাংশ, ভোকেশনালে ৫৮.২০ শতাংশ।
  • বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ পাস যশোরে, ৮৬.৯০ শতাংশ।
  • ভোকেশনালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।

বিজ্ঞানে পাস ৮০.৬৪ শতাংশ, ভোকেশনালে ৫৮.২০ শতাংশ
১০ আগষ্ট, ২০২৬ ১০:৫৩  

ঢাকা, ১০ আগস্ট: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দুই ধারার ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা গেছে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কারিগরি শিক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী। তবে ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষার মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সামগ্রিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী।

শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ফলাফল এমন সময়ে প্রকাশ হলো, যখন উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে শুধু পাসের হার নয়, শিক্ষার্থীরা কতটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করছে—সেটিও শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠছে।

এদিকে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সামগ্রিক পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দ্বিতীয় যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে ফল প্রকাশ করা হয়। 

যেভাবে পাওয়া যাবে ফলাফল
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট educationboardresults.gov.bd–এ প্রবেশ করে Examination অপশন থেকে SSC/Dakhil বেছে নিন। Year অপশন থেকে পরীক্ষার বছর নির্বাচন করুন। এরপর নির্দিষ্ট বোর্ড সিলেক্ট করে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে লিখুন। শেষে সিকিউরিটি ক্যাপচা (যেমন: ৩+৫ = ৮) পূরণ করে Submit বাটনে ক্লিক করুন।

এ ছাড়া এসএসসির ফল জানা যাবে এসএমএসের মাধ্যমে। মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ (16140) অথবা ১৬২২২ (16222) নম্বরে SMS প্রেরণের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

সে ক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে ইংরেজিতে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর দিতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে। (SSC Dha 123456 2026 Send to 16140)। ফিরতি মেসেজে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

মাদ্রাসা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আগে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রিরেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি হলো Dakhil

কারিগরি: এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে SSC Board name (first 3 Letters) Roll Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: SSC TEC 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
 
প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ফলাফল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পেতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) এন্ট্রি করতে হবে। তাহলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

//ডিবিটেক/ এসএমএ/ এমআইএস//