এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান বিলুপ্তির আশঙ্কা সিপিডির প্রতিবেদনে

প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে পোশাক খাতে ১২ লাখ শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকি

  • ১২ লাখ ২০ হাজার কর্মসংস্থান বিলুপ্তির আশঙ্কা আরএমজি খাতে
  • ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকির মুখে
  • কারিগরি শিক্ষার হার ২০ শতাংশের নিচে ও জিডিপি বিনিয়োগ ১.৩ শতাংশ

প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে পোশাক খাতে ১২ লাখ শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকি
১৬ জুলাই, ২০২৬ ০০:০৯  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তারে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাতে নিয়োজিত প্রায় ৬০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যথাযথ নীতিগত প্রস্তুতির অভাব এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে শিক্ষাব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতার বড় ধরনের অমিল এই ঝুঁকিকে আরও ঘনীভূত করছে।

স্বাধীন গবেষণা ও নীতি সংলাপ কেন্দ্র সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই অটোমেশন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার ৯০ শতাংশই নারী। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৯০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হবে। বর্তমানে উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থান ৮১ লাখে স্থির থাকলেও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অটোমেশনের প্রভাবকেই নির্দেশ করে। সেবা খাতের বড় অংশও বর্তমানে অনিরাপদ ও নিম্ন উৎপাদনশীল।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিপিডি সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করেছে:

  • শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা সংস্কার ও জীবনব্যাপী পুনঃদক্ষতা (রিস্কিলিং) কর্মসূচি।
  • শিক্ষা ও দক্ষতা খাতে জিডিপির বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।
  • জাতীয় শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা (এলএমআইএস) ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  • শিল্প প্রণোদনার সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে যুক্ত করা এবং নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কৌশল গ্রহণ।
  • বর্তমান নীতিমালার বড় ঘাটতি দূর করে গিগ অর্থনীতির জন্য সমন্বিত কাঠামো ও স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি।

 এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে সিপিডি ১৫ জুলাই, বুধবার ‘পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।  সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধে জানান, ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাতে ৬০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে। ২০২৪ সালেই দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার ৯০ শতাংশই নারী। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সরকারি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সংযোগের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তির হার ২০ শতাংশের নিচে এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির এই পরিবর্তনের গতি ও প্রযুক্তির বিপ্লবকে সামলানোর মতো বাস্তবমুখী রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার এখন সময়ের দাবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে এআই ও অটোমেশন ১ কোটি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করলেও ৯০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত করবে। বর্তমান শ্রমবাজারের ৮১ লাখ উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান স্থবির হয়ে আছে এবং সেবা খাতের বিশাল অংশই অনিরাপদ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিপিডি শিল্প চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা সংস্কার, জীবনব্যাপী পুনঃদক্ষতা (রিস্কিলিং) কর্মসূচি, শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা (এলএমআইএস) ও গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। সঠিক নীতি ও প্রযুক্তিগত অভিযোজন ছাড়া প্রবৃদ্ধিকে টেকসই কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

//ডিবিটেক/ ডিএইচই/ সম্পাদনা//