‘২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন, না হলে ব্যবসা করবেন না’

কলরেকর্ড ফাঁসের পরই ডিডিএন কার্যালয়ে কুড়াল নিয়ে হামলা, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিডিএন’ কার্যালয়ে দিনদুপুরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলার আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ফোন করে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বিদেশে পলাতক ডেভিড ইমন।

কলরেকর্ড ফাঁসের পরই ডিডিএন কার্যালয়ে কুড়াল নিয়ে হামলা, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
১৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:০০  

ব্যবসা যদি করতে চান, তাহলে ২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ করে দেবেন। তাহলে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতে পারবেন, না হলে পারবেন না। আপনার বায়োডাটা সবকিছু আমার জানা আছে। দুই দিন পরে দেখবেন কী হয়।”— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি কলরেকর্ডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন)-এর মালিক আদিল বিন মামুনকে এভাবেই হুমকি দিচ্ছিলেন ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন। এই প্রচ্ছন্ন হুমকির ঠিক দুই দিনের মাথায় ১৩ জুলাই, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় ডিডিএন কার্যালয়ে দিনদুপুরে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।

ফাঁস হওয়া কলরেকর্ডে ডেভিড ইমনকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমি বিজনেস করি না, আমি ডেভিড ইমন বলতেছি। আপনি আমার ডাটা পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করিয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করব, আপনারা আর ব্যবসা করিয়ান না। ব্যবসা বাণিজ্য যদি করেন স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কি হয়েছে তো দেখছেন। আপনারা ১৭-১৮ বছর ব্যবসা করছেন, আর আমরা ৫ আগস্টের পর ১৭-১৮ টা মার্ডার মামলা নিয়ে ঘুরতেছি।”

ভুক্তভোগী আদিল বিন মামুন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইমন বলেন, “ব্যবসা করতে চাইলে ২ কোটি টাকা রেডি রাখবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দেবেন। না হলে ব্যবসা করবেন না। ব্যবসা আমরা চালাব।”

এই হুমকির ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি মাস্ক পরা সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএন কার্যালয়ে প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা কুড়াল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির জানান, হামলাকারীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে তীব্র ভয়ভীতি দেখায় এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই কার্যালয়ের পাশেই স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে গুলি চালিয়েছিল বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ডেভিড ইমন মূলত সাজ্জাদ আলীর হয়েই চট্টগ্রামের অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বাকলিয়ার আলোচিত জোড়া খুনসহ সাতটি মামলার আসামি। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান ও চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
//ডিবিটেক/ডিএইচই/এসআই//