বৃত্তি ফল ফাঁস, আইটি কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

  • নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগে কর্মকর্তা বরখাস্ত।
  • ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবপোর্টালে তথ্য আপলোড।
  • প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি।

বৃত্তি ফল ফাঁস, আইটি কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৯  

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশের আগেই ওয়েবপোর্টালে আপলোড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তথ্য নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

১০ জুলাই, শুক্রবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৯ জুলাই ২০২৬ থেকে তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হবে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপবৃত্তি বিভাগের শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল কবির সুমন এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রশাসন-২ শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রোখসানা হায়দার দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে বলা হয়, ৮ জুলাই ২০২৬ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়। পরে ওয়েবপোর্টালে ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মেহতাব কায়েসকে। তাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যথাযথ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করা যাবে না।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ জুলাই সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার ফলাফল সংশ্লিষ্ট লিংকে আপলোড করা হয়। অল্প সময়ের জন্য লিংকগুলো সচল থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল ডাউনলোড করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কারিগরি সমস্যার কারণে নির্ধারিত দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এর আগেই ফলাফলের খণ্ডিত অংশ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল শেয়ার করে শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানালেও পরে ফলাফলের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

দিনব্যাপী এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর সরকার রাতে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সরকারি ওয়েবসেবায় নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণের বিষয়টি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

//ডিবিটেক/ জেএনপি/ ইকে//