বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক এআই প্রশিক্ষণে নতুন সাফল্য

এআই ট্যালেন্ট গড়তে জিসিআই ওয়ার্ল্ডের সমাপনী

  • ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
  • এআই হ্যাকাথন আয়োজন
  • বাংলাদেশির বৈশ্বিক স্বীকৃতি

এআই ট্যালেন্ট গড়তে জিসিআই ওয়ার্ল্ডের সমাপনী
৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:২১  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিংয়ে নতুন প্রজন্মের দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত জিসিআই ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর ১৪ সপ্তাহব্যাপী বৈশ্বিক শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরি যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে বিশ্বের ১১৪টি দেশের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী।

জিসিআই ওয়ার্ল্ড মূলত একটি হ্যান্ডস-অন এআই লার্নিং প্রোগ্রাম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম, ডেটা অ্যানালিটিক্স, এআই মডেল উন্নয়ন এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির প্রশিক্ষণ পান। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প ও গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।

প্রোগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জিসিআই ওয়ার্ল্ড হ্যাকাথন, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে এআই-চালিত অ্যাপ্লিকেশন, ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং মেশিন লার্নিং মডেল তৈরি করে। এ সময় টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবের গবেষকেরা এআই প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি, জেনারেটিভ এআই, ডেটা সায়েন্স এবং বাস্তব জীবনে প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে অনলাইন ও সরাসরি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য দক্ষ এআই ট্যালেন্ট তৈরি করা।

জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মোরিকাওয়া ইউকো বলেন, এআই শিক্ষা যদি গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ নিজস্ব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উদ্ভাবনের পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও নতুন উদ্ভাবন উপহার দিতে সক্ষম হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী নির্বাচিত ১৭ জন ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট’-এর নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের আগস্টে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাব পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন, যেখানে তারা অত্যাধুনিক এআই গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাংলাদেশের এআই ইকোসিস্টেম, ডেটা সায়েন্স গবেষণা, উদ্ভাবনী স্টার্টআপ, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথ আরও সুদৃঢ় করবে।

//ডিবিটেক/ আরআই/ ইকে//