হালনাগাদ চিকিৎসা নির্দেশিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক সেমিনার

গর্ভকালীন এন্ডোক্রাইন রোগে আধুনিক চিকিৎসায় জোর

  • এন্ডোক্রাইন রোগে সচেতনতা
  • আধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা
  • জ্ঞান বিনিময়ে সেমিনার

গর্ভকালীন এন্ডোক্রাইন রোগে আধুনিক চিকিৎসায় জোর
৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১১  

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনালসহ বিভিন্ন এন্ডোক্রাইন রোগের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড কমন এন্ডোক্রাইন ডিসওর্ডার’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।

অনুষ্ঠানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শাখার চিকিৎসকেরা অংশ নেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এভিডেন্স-বেইজড মেডিসিন (Evidence-based Medicine), হালনাগাদ ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা।

সেমিনারে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, থাইরয়েড ম্যালিগন্যান্সির ইতিহাস থাকা নারীদের চিকিৎসা, প্রোল্যাকটিনোমা, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PMOS) এবং গ্রেভস ডিজিজ-এর মতো জটিল বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা, কেসভিত্তিক চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় প্রিসিশন মেডিসিন এবং বহুবিভাগীয় সমন্বিত চিকিৎসা এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগ শুধু মায়ের নয়, অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা এবং নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিয়মিত নতুন গবেষণা, ক্লিনিক্যাল তথ্য এবং চিকিৎসা নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে। এসব তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক কনটিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (CME) এবং বৈজ্ঞানিক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা বলেন, এন্ডোক্রাইন রোগের চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেয়ার মডেল এখন অপরিহার্য। অন্যদিকে, উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন বলেন, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্দেশনা অনুসরণ করলে মা ও নবজাতকের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম (CDSS), ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (EHR), টেলিমেডিসিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ডেটা-নির্ভর ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন ভবিষ্যতে গর্ভকালীন এন্ডোক্রাইন রোগের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং রোগী পর্যবেক্ষণকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।

//ডিবিটেক/ ডিএমও/ ইকেএস//