উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের চার স্তম্ভের কর্মপরিকল্পনা
দ্রুতই ঘোষিত হবে সেমিকন্ডাক্টর জাতীয় সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিটের রোডম্যাপ
- সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকারক হওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা
- ‘সাইন্স টু ইকোনমি’ দর্শনে জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট ও বায়োটেক পার্কের উদ্যোগ
- ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ও ডিপ-টেক ইকোসিস্টেম জোরদারে তৈরি হচ্ছে রূপরেখা
বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী বা ভোক্তা হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ভ্যালু চেইনে অন্যতম প্রধান উদ্ভাবক ও প্রস্তুতকারক হিসেবে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত রূপকল্প হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে "Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh"।
ঢাকার নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বেয়ার (BEAR) সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান গত রবিবার, ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বের শেষে শিগগিরই কম্পাইলকৃত পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সম্মেলনের প্রধান পরিকল্পক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা হোসেইন জানান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। এই সামিটের অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে সিলিকন ভ্যালির সিনোপসিস (Synopsys), গ্লোবালফাউন্ড্রিজ (GlobalFoundries) ও সানডিস্কের (SanDisk) মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের সাথে পার্টনারশিপ এবং বাংলাদেশে অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং রিসার্চ সেন্টার তৈরির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। সকল অংশীজনের ফিডব্যাক এক করে শিগগিরই চূড়ান্ত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সরাসরি বাজারের সাথে যুক্ত করতে মন্ত্রণালয় ৪টি মূল স্তম্ভ—স্টেম (STEM) ট্যালেন্ট পাইপলাইন, গবেষণা থেকে বাজারে স্থানান্তর (R2M), উদ্ভাবন থেকে বাজার সৃষ্টি (I2M) এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিতে অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, 'ন্যাশনাল বায়োটেক পার্ক' এবং 'ন্যাশনাল এআই ইনস্টিটিউট' প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিএসআইএ সভাপতি এম এ জব্বার জানান, দেশে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, টেস্টিং এবং প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের নীতিগত সহায়তা নিয়ে কাজ চলছে।
দু'দিনের এই আয়োজনে ৬টি প্যানেল আলোচনায় দেশ-বিদেশের ৪৬ জন বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, তরুণ উদ্ভাবক ও বিনিয়োগকারী অংশ নেন।
//ডিবিটেক/ আইএইচ/ইডিপি//





