বঞ্চিতদের চিকিৎসায় শতভাগ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র
‘আলো ক্লিনিক’ মডেল সম্প্রসারণের কথা ভাবছে সরকার
- সুবিধাবঞ্চিত নগরবাসীর প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল সম্প্রসারণের উদ্যোগ।
- মেটারনাল ও চাইল্ড কেয়ারে সফল ২০২১ সাল থেকে চলা এশিয়ার এই মডেল।
- ডিজিএইচএস (DGHS) ও ইউনিসেফের কর্মশালায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালীকরণের তাগিদ।
শহরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের সম্ভাব্য সম্প্রসারণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে সরকার। ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) এবং আলো ক্লিনিক আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়। দেশের নগর স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে এই উদ্যোগের তথ্য-প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন কৌশল এবং শিক্ষণীয় দিকগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সুইডেন দূতাবাস, ইউনিসেফ (UNICEF) এবং পার্টনারস ইন হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (PHD)-এর যৌথ সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল শহুরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, যেখানে এখনও অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা অধরা।
সুইডিশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ২০২১ সাল থেকে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলটি পরিচালনা করে আসছে ইউনিসেফ। বর্তমানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে ছয়টি ক্লিনিক জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের (ESP++) আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, সমন্বিত এবং শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। ক্লিনিকগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগীকে মাতৃত্বকালীন, নবজাতক ও শিশু যত্ন, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, প্যাথলজিক্যাল ডায়াগনস্টিকস এবং সাধারণ চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
আয়োজনে আরবান হেলথ অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের (UHDSS) তথ্যে দেখা যায়, এই মডেলের কারণে সেবাপ্রাপ্ত এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বেড়েছে এবং নবজাতক ও অনূর্ধ্ব-পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর কার্যকারিতা বিবেচনা করে সরকার ইউনিসেফকে এই মডেলটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের জন্য একটি ধারণাপত্র (কনসেপ্ট নোট) তৈরির অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জোর দিয়ে বলেন, আর্থিক সক্ষমতা বা অবস্থান বিবেচনা না করে সকল নাগরিকের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে যাতে নাগরিকদের বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়।
সব মানুষের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, বিপুল অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তৃণমূলের হাসপাতালগুলোতে (উপজেলা, জেলা এবং জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) কিডনি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য সর্বোচ্চসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শহরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে যেভাবে আলো ক্লিনিক মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তা সত্যিই অনুকরণীয়। আলো ক্লিনিক কীভাবে সফলভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমি নিজে তাদের একটি ক্লিনিক পরিদর্শন করব। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে আমরা যে ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্ব নিয়েছি, সেখানে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ চিফ ড. মালালাই আহমেদজাই এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
//ডিবিটেক/ জেএনএন/ এমআই//





