ফিফাকে ওমর সানীর তোপ, হাসপাতালে পরীমনির নাচ আর চঞ্চলের ভিন্ন বার্তা
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: শেষ ষোলোর ম্যাচ ঘিরে উত্তাল শোবিজ ও সোশ্যাল মিডিয়া
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে সাবেক ভিএআর কর্মকর্তা, ফুটবল বিশ্লেষক, অভিনেতা ওমর সানী, চঞ্চল চৌধুরী, পরীমনিসহ অসংখ্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে নাটকীয়ভাবে হারের পর শুধু ম্যাচের ফল নয়, রেফারিং ও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ম্যাচের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিসর শিবির। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
রেফারিকে ‘জালিম’ আখ্যা মিশরের, ভিএআর নিয়ে বিতর্ক
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে মিশর। দলটির কোচ হোসাম হাসানের দাবি, ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে। আবার আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি।
মিশর কোচের অভিযোগ, “হয়তো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিশরের সঙ্গে এ অন্যায় করা হয়েছে।” মাঠের ঘটনার পাশাপাশি মাঠের বাইরের কারণও তাদের হারের জন্য দায়ী বলে মনে করেন তিনি। এদিকে মাঠের রেফারিকে ‘জালিম’ আখ্যা দিয়েছেন মিশরের ফরোয়ার্ড জিকো। জিকোর এই মন্তব্য ও ছবি সংবলিত ‘ফটো কার্ডে’ এখন সয়লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে এক্স, ফেসবুক, রেডিটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে '#VAR', '#Messi' এবং '#Egypt' ঘিরে লাখো পোস্ট দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, মিসর 'বঞ্চিত' হয়েছে। আবার অন্য একটি অংশের মতে, ভিএআর সিদ্ধান্ত ফুটবলের আইন অনুযায়ীই নেওয়া হয়েছে।
খোদ ভিএআর রেফারির স্বীকারোক্তি: ‘নিয়ম ভাঙা হয়েছে’
এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ভিএআর প্যানেলে থাকা মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গেরেরো। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, "জিকোর গোল বাতিল করা উচিত হয়নি।"
ফিফার অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ (Attacking\ Possession\ Phase বাAPP) প্রোটোকল উল্লেখ করে তিনি ব্যাখ্যা করেন, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা বল হারানোর পর তা পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট সময়, জায়গা ও সুযোগ পেয়েছিল। তাদের রক্ষণভাগও সংগঠিত ছিল এবং তারা তিনবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ফলে, প্রোটোকল অনুযায়ী আগের কোনো সম্ভাব্য ফাউলকে ভিত্তি ধরে গোল বাতিল করা নিয়ম পরিপন্থী। গেরেরোর মতে, এই ভুলের খেসারত দিয়ে মিসরকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিল সম্প্রচার বিশ্লেষণে ভিএআরের সিদ্ধান্তে 'দ্বৈত মানদণ্ড'র অভিযোগ তোলেন। অপরদিকে রয় কিন বলেন, বড় দলগুলো অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়ে থাকে, যদিও তিনি আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের প্রশংসাও করেন।
‘ফিফা অন্যায় করছে’, ক্ষুব্ধ ওমর সানী
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এই নাটকীয় জয়কে ঘিরে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লাস চলছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ওমর সানী। নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি ফিফার তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে ব্রাজিলের সমর্থক ওমর সানী বলেন, “ব্রাজিল হেরেছে, আমি এটাকে অন্যায় বলি না। ব্রাজিল খারাপ খেলেছে, তাই হেরেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার কিছু নির্লজ্জ ভক্ত যেভাবে অন্যকে ট্রল করে বিজয় উদযাপন করছে, তার কোনো কারণ আমি দেখি না।” সাবেক এই ফুটবল অনুরাগী আরও অভিযোগ করেন, ফিফা বর্তমান বিশ্বকাপে ইরান ও মিশরের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ফিফাকে বড় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে মেসিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন বলে বক্তব্যের শেষে উল্লেখ করেন।
‘মেসির গোলের পর হাসপাতালে আর রাখে নাই’: পরীমনি
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার এই জয়ে যখন কোটি ভক্ত আনন্দে ভাসছেন, তখন সেই উম্মাদনায় শামিল হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনিও। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও প্রিয় দল ও মেসির গোল উদযাপন করতে ভোলেননি তিনি। হাসপাতাল থেকেই নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় একের পর এক ফেসবুক পোস্ট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছেন এই নায়িকা।
ম্যাচ চলাকালে পরীমনি লেখেন, “হসপিটালে পা ভাঙা রোগীদের ফুটবল খেলা দেখা নিষেধ। আমি কিছু জানি না…।” এরপর আর্জেন্টিনার জয়ের পর মেসির প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে আরেকটি পোস্টে লেখেন, “মেসি গোল দেওয়ার পর হসপিটালে আর রাখে নাই আমাকে। লালালা… লিও মেসি।” পরীমনির এই পোস্টগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভক্তরা তাঁর এই ব্যতিক্রমী রসবোধের প্রশংসা করছেন।
‘কারও পরাজয়ে উন্মাদের মতো উল্লাস করতে হয় না’: চঞ্চল চৌধুরী
চলতি বিশ্বকাপ থেকে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন এক দল সমর্থক ট্রল ও কটূক্তিতে ব্যস্ত, তখন এক দায়িত্বশীল ও ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। নিজে আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও ব্রাজিলের হারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে চঞ্চল চৌধুরী লেখেন, “কারও পরাজয়ে উন্মাদের মতো উল্লাস করতে হয় না। সমব্যথী হতে হয়। অন্তত সেটা না পারলে শান্ত থাকতে হয় অথবা সান্ত্বনা দিতে হয়। ব্রাজিলের পরাজয়ে সত্যিই আমি মর্মাহত হয়েছি। বিন্দুমাত্র উল্লাস করিনি।” চঞ্চল চৌধুরীর এই পরিপক্ব মন্তব্য নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিপক্ষের পরাজয়কে উপহাস না করে সমব্যথী হওয়াই একজন প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমীর পরিচয়।
বিতর্কের শেষ কোথায়?
মিসরের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচটি এখন পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ভিএআর বিতর্কগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনার শেষ আটের টিকিট কাটার এই ম্যাচটি মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
//ডিবিটেক/এসএম/এসএমআই//





