ডিজিটাল কারসাজিতে ৫ বছর ও নিষিদ্ধ ডিভাইসে ২ বছরের জেলের বিধান, অপরাধসমূহ আমলযোগ্য

প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজি রোধে সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) সংশোধন বিল’ পাস

প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের প্রস্তাবনায় বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজি রোধে সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) সংশোধন বিল’ পাস
৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৩  

প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। ৭ জুলাই, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার লক্ষ্যেই বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে। পাস হওয়া এ বিলের মাধ্যমে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর পুরোনো বিধান সংশোধন করে সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি ও নতুন ধরনের অনিয়ম মোকাবিলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের জালিয়াতি ঠেকাতে আইনটি যুগোপযোগী করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

পাস হওয়া বিলের প্রধান প্রধান শাস্তির বিধানসমূহ:

  • ডিজিটাল কারসাজিতে ৫ বছরের জেল: সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো 'ডিজিটাল কারসাজি'র আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ধারা ৫ অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার মতো অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

  • প্রশ্নফাঁসে কঠোর শাস্তি: প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের শাস্তি আরও কঠোর করতে বিদ্যমান ধারা ৮ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

  • নিষিদ্ধ ডিভাইস নিলে ২ বছরের জেল: প্রযুক্তির সহায়তায় নকল প্রতিরোধে ধারা ৩এ সংযোজন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

  • অনুমোদনহীন কেন্দ্র ও নম্বর কারসাজি: নতুন ধারা ৯এ-এর মাধ্যমে অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তি এবং অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া মালিকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান করে ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে (ধারা ১০এ) সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠান ও হুইসেলব্লোয়ারদের দায় ও সুরক্ষা: কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা কর্মীদের তদারকিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে (ধারা ১২এ)। এছাড়া সৎ উদ্দেশ্যে অপরাধের তথ্য প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) দেওয়ানি, ফৌজদারি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ১৩বি)। বিলে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীন অভিযুক্ত কোনো শিশুর বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

সংশোধিত আইনে এসব অপরাধকে আমলযোগ্য (কগনিজেবল) করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারবে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য এলাকায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে এসব মামলার বিচার করবেন। নতুন আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

//ডিবিটেক/ডিএইচই/এমআই//