‘বাংলালিংক পাওয়ার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা দিয়ে আয় ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন উপকারভোগীরা
মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে উইনরকের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারত্ব
মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত উইনরকের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি বাংলালিংকের ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা প্রদান করে আয় করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবেন।
৭ জুলাই, মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয় টাইগার্স ডেন-এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলালিংকের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত।
চুক্তির আওতায় অংশগ্রহণকারীরা মোবাইল রিচার্জ ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা বিক্রির মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁরা ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, গ্রাহকসেবা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।”
‘বাংলালিংক পাওয়ার’ বাংলালিংকের একটি সামাজিক পরিবেশনা (সোশ্যাল ডিস্ট্রিবিউশন) প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জ বিক্রি করে আয় করা যায়। কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই তরুণ, নারী, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে আয় করতে পারেন।
প্ল্যাটফর্মটিতে সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল কেওয়াইসি (Know Your Customer) যাচাই, তাৎক্ষণিক কমিশনের হিসাব দেখার সুবিধা এবং স্বচ্ছ পুরস্কার ব্যবস্থাপনা রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে নিজেদের আয় ও লেনদেন কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
বাংলালিংকের মতে, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এ অংশীদারত্বের ফলে একদিকে যেমন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আর্থিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে, অন্যদিকে ‘বাংলালিংক পাওয়ার’-এর নেটওয়ার্কও আরও বিস্তৃত হবে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উপকারভোগীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং তাঁদের নিজ নিজ কমিউনিটির অন্যদেরও ডিজিটাল আয়ের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাসনুন হক উপস্থিত ছিলেন।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, “মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করছে উইনরক। তাদের এ মহতী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে বাংলালিংক গর্বিত। একই সঙ্গে এই অংশীদারত্ব সমাজের সব নারীর ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে জিএসএমএর ‘কানেক্টেড উইমেন’ উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত বলেন, “টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে ডিজিটাল দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। বাংলালিংকের সঙ্গে এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের মানব পাচারপ্রবণ ১০টি জেলার নারী ও পুরুষকে প্রায়োগিক ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ধরনের হাতে-কলমে শেখানো দক্ষতা তাঁদের প্রযুক্তি ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম হতে সহায়তা করবে।”
বাংলালিংক জানিয়েছে, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং বিভিন্ন অংশীদারত্বের মাধ্যমে সবার জন্য আয় ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ এই উদ্যোগ।
//ডিবিটেক/আরএম/ইকে//





