ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণা, ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি খাল পুনঃখনন

ডিজিটাল নেটওয়ার্কে ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনের কাছে পৌঁছেছে সিরডাপ: এলজিআরডি মন্ত্রী

সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংস্থাটি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রকাশনার মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনের কাছে পৌঁছে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। তিনি গ্রামীণ রূপান্তরে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

ডিজিটাল নেটওয়ার্কে ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনের কাছে পৌঁছেছে সিরডাপ: এলজিআরডি মন্ত্রী
৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৪  

ডিজিটাল রূপান্তরকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রকাশনার মাধ্যমে বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনের কাছে পৌঁছে সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংস্থার ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী জানান, প্রায় পাঁচ দশক ধরে সিরডাপ আঞ্চলিক সংহতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২১৫টি গবেষণা কর্মসূচি এবং ৩৫০টি সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি আট হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে গ্রামীণ সমাজ জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা এবং যুব বেকারত্বের মতো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরডাপ জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আরও ৪০টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (পিআইডিএফ) সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে তার কর্মসূচির কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। দলের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১২ লাখেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে গ্রামগুলোকে প্রশাসন, অবকাঠামো এবং জনসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যা সেচব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া ‘ফার্মার কার্ড’ বা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ, ঋণ, বীমা এবং বাজার সুবিধা পাবেন। সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গ্রামীণ সমাজ ও জনগণের জীবনমানের গুণগত পরিবর্তন আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বক্তব্যে তিনি সিরডাপের ৪৭ বছরের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং এলজিইডি সচিব শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/ডিএইচই/এমআই//