শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে কার্যকর করভার ৪৩.৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৪.২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে; গ্রে মার্কেট বিস্তার ও রাজস্ব কমার আশঙ্কা এমআইওবির
শুল্ক সুবিধা না বাড়ালে স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে ২৫ শতাংশ!
স্মার্টফোন আমদানিতে দেওয়া সাময়িক শুল্ক সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হলে নতুন অর্থবছরে ডিভাইসের দাম ২০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। সংগঠনটির মতে, এতে গ্রে মার্কেট বাড়তে পারে এবং সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্মার্টফোন আমদানিতে বর্তমানে কার্যকর শুল্ক সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন না করা হলে দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি জারি করা বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার স্মার্টফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। তবে এই সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে আগামী ১ জুলাই থেকে কাস্টমস ডিউটি পুনরায় ২৫ শতাংশে ফিরে যেতে পারে।
এমআইওবির হিসাবে, এর ফলে স্মার্টফোন আমদানিতে কার্যকর করভার বর্তমান ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।
সংগঠনটির দাবি, করভার বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। আমদানিনির্ভর স্মার্টফোনের দাম গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাজার পরিসংখ্যান বলছে, অ্যাপল, গুগল, মটোরোলা, হুয়াওয়ে, স্যামসাং ও শাওমির অনেক মিড-রেঞ্জ, প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ মডেল স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। সীমিত বাজার, জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত যন্ত্রাংশের কারণে এসব ডিভাইস আমদানির ওপরই নির্ভরশীল। ফলে-
-
বর্তমানে ৫০ হাজার টাকার একটি স্মার্টফোনের দাম বেড়ে ৬০–৬২ হাজার টাকায় যেতে পারে
-
৮০ হাজার টাকার ডিভাইসে অতিরিক্ত ১৬–২০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে
-
এক লাখ টাকার প্রিমিয়াম ফোনে মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে ২০–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত
এমআইওবি বলছে, স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; ব্যাংকিং, শিক্ষা, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং সরকারি ডিজিটাল সেবা গ্রহণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি ভোক্তা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।
সংগঠনটির মতে, জানুয়ারিতে শুল্ক কমানোর পর বৈধ আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন মডেলের সরবরাহ বেড়েছে এবং আনুষ্ঠানিক বিক্রয় চ্যানেলে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও বলছে, বাংলাদেশের উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন বাজার এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর মিড-রেঞ্জ, প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের অনেক মডেল স্থানীয়ভাবে উৎপাদন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়।
এমআইওবির আশঙ্কা, শুল্ক সুবিধা প্রত্যাহার হলে অফিসিয়াল ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের দামের ব্যবধান আরও বাড়বে, যা গ্রে মার্কেটকে উৎসাহিত করতে পারে।
কেন বাড়তে পারে গ্রে মার্কেট?
বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রে মার্কেট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশে আসা ফোনগুলো সাধারণত শুল্ক ও অন্যান্য করের আওতার বাইরে থাকায় সেগুলোর দাম তুলনামূলক কম থাকে।
এমওআইবির মতে, ১ জুলাই থেকে নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল ডিভাইসের মধ্যে দামের ব্যবধান আরও বড় হবে।
একই মডেলের ফোন অফিসিয়াল বাজারে যদি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়, তাহলে অনেক ক্রেতাই কম দামের বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
চিঠিতে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি গ্রে মার্কেটকে নতুন করে উৎসাহিত করবে। ফলে বৈধ আমদানি কমে যেতে পারে এবং আনুষ্ঠানিক বিক্রয় চ্যানেলের বাইরে লেনদেন বাড়তে পারে।
সংগঠনটি মনে করে, করহার বাড়ালেই রাজস্ব বাড়বে—এমন নয়। বরং বৈধ আমদানি কমে গেলে এবং অনানুষ্ঠানিক বাজার বড় হলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমতে পারে।
//ডিবিটেক/এইচটিএএইচ/ডিএইচই//





