মোবাইল অপারেটরদের বকেয়া নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদ্বেগ এমটবের, বলছে বিষয়গুলো ‘আইনগতভাবে জটিল’
সরকারের কাছে মোবাইল অপারেটরদের বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (এমটব)। সংগঠনটি বলেছে, উত্থাপিত অর্থের বড় অংশ ভ্যাট, রাজস্ব ভাগাভাগি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত ব্যাখ্যাগত জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এসব বিষয়ে আদালতের পর্যালোচনা প্রয়োজন।
মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে—এমন সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (এমটব)।
২৫ জুন, বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমটব জানায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অর্থের পেছনে থাকা জটিল আইনগত ও নিয়ন্ত্রক বাস্তবতাকে পুরোপুরি তুলে ধরে না।
সংগঠনটি বলেছে, আলোচিত বকেয়ার বড় একটি অংশ অনিষ্পন্ন ভ্যাট-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। এমটবের দাবি, মোবাইল অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে অর্থ পরিশোধ করে এলেও প্রয়োজনীয় মূসক চালান সংগ্রহে নানা জটিলতার কারণে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ভ্যাট রেয়াত ও ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা নিতে পারেনি।
এমটব আরও জানায়, রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থের ওপর ভ্যাট আরোপের বিষয়টি দ্বৈত কর আরোপের ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ বিভিন্ন পর্যায়ে ওই আয়ের ওপর এরই মধ্যে ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরীক্ষার সময় লাইসেন্সের শর্তগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণেও বিতর্কিত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি বলেছে, এসব বিষয় কর আইন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও এর প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছে, যার চূড়ান্ত সমাধানে আদালতের পর্যালোচনা প্রয়োজন।
এমটব জানিয়েছে, আদালতের শরণাপন্ন হওয়াকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি আইনের আলোকে বিষয়গুলোর স্পষ্টতা অর্জন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তথ্যভিত্তিক আলোচনা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং আইনানুগ উপায়ে নিয়ন্ত্রক ও কর-সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
এমটবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোবাইল অপারেটরগুলো দেশের সব বৈধ আইনগত বাধ্যবাধকতা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যেতে আগ্রহী।
সংগঠনটি আরও বলেছে, টেলিযোগাযোগ খাত দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে এই খাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
এমটব মনে করে, একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ টেলিযোগাযোগ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
//ডিবিটেক/এএম/ইকে//





