ডা. জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে ভাইরাল উক্তি ও ছবি ভুয়া: ফ্যাক্টচেক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে একটি ফটোকার্ড ও ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হওয়ার সময় ভারতীয় পুলিশ তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ফ্যাক্টচেক সংস্থা দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া উক্তি ও ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড ও ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “বিমানবন্দরে যখন নিজের পরিচয় দিলাম তখন উলটো আমার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। পিছন থেকে এক পুলিশ বলে উঠে ‘ইয়ে নশেইড়ি ক্যায়সে উপদেষ্টা বান গয়া’।”
এছাড়া একটি ছবিতে দাবি করা হয়, ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ ডা. জাহেদ উর রহমানকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তবে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, উক্তি ও ছবিটি দুটিই ভুয়া।
ফ্যাক্টচেক সংস্থা দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, উক্ত ফটোকার্ড ও ছবিটি প্রথমে কয়েকটি রাজনৈতিক প্রচারধর্মী পেজে ছড়ানো হয় এবং পরে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
যাচাইয়ে দেখা যায়, ডা. জাহেদ উর রহমানের নামে প্রচারিত মন্তব্যটির কোনো সত্যতা নেই। ভারতীয় পুলিশের কোনো সদস্য তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেননি এবং ডা. জাহেদও এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “এটি নিশ্চয়ই ভুয়া। হিন্দি ভাষা আমি জানিই না, বুঝিই না।”
ভাইরাল ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করতে এআই শনাক্তকারী টুল WasItAI এবং ZeroGPT ব্যবহার করা হয়। এসব টুলের বিশ্লেষণে ছবিটিকে ভুয়া বা কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদ উর রহমানকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ সত্য। জানা যায়, পরিচয় যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয় এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু তিনি পরে ভারতে প্রবেশ না করে অন্য একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ফলে দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির ঘটনা বাস্তব হলেও, সেটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কথিত উক্তি ও ছবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর।
//ডিবিটেক/এসআই/ইকে//





