নতুন বাজেটে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকার প্রস্তাব

১০০ উপজেলায় ৪২.৫ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন জাতীয় বাজেটে ১০০টি উপজেলার ৪২.৫ লাখ কৃষকের জন্য 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে পেশ করা এই বাজেটে এ খাতে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকেরা বছরে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। এছাড়া বাজেটের ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে

১০০ উপজেলায় ৪২.৫ লাখ কৃষক পাবেন ‘কৃষক কার্ড’
১১ জুন, ২০২৬ ১৩:৪৪  

দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক রূপান্তর এবং প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা বলয় জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি ব্যাপক আকারে সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ সামাজিক কর্মসূচির আওতায় দেশের ১০০টি উপজেলায় মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার (৪২.৫ লাখ) কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে এবং এই কল্যাণমুখী খাতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মেগা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

১১ জুন, বৃহস্পতিবার  বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অধিবেশনে দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট পেশের ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে সংসদ অধিবেশনে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের জাতীয় সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সকল প্রকৃত কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ করার একটি দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকেরা বছরে একবার সরাসরি ২,৫০০ টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা (Cash Assistance) পাবেন, যা তাঁদের কৃষি উৎপাদন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

ঘোষিত এই বাজেটে সামগ্রিক ব্যয়ের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন অর্থবছরে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি সফলভাবে পূরণ করতে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ও অ-ব্যাংকিং খাত এবং বৈদেশিক— উভয় উৎস থেকেই সুষম অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন বৈদেশিক ঋণ ও আন্তর্জাতিক অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে এই ঘাটতি সমন্বয় করা হবে।

//ডিবিটেক/এসআই/এমআই//