সৌরবিদ্যুতে চলবে বাংলালিংকের ১৫ শতাধিক বিটিএস

সৌরবিদ্যুতে চলবে বাংলালিংকের ১৫ শতাধিক বিটিএস
১২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:৫০  

দেশজুড়ে বিস্তৃত নিজেদের ১৫ হাজারেরও বেশি বিটিএস সাইট, ডেটা সেন্টার ও স্পেশাল পারচেজ ভেহিকল (এসপিভি) সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনা করতে যাচ্ছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। এর মাধ্যমে মোট জ্বালানি ব্যবহারের ৬০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অপারেটরটি। 

এভাবেই প্রচলিত জীবাশ্ম-জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুত পেতে ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেডের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) সই করেছে বাংলালিংক। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা সম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে বাংলালিংক।   

জানা গেছে,  চুক্তি অনুযায়ী ফ্লোসোলার ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারেরা এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির যথাযথ উন্নয়ন, অর্থায়ন ও পরিচালনায় কাজ করবে। অন্যদিকে, বাংলালিংক দীর্ঘমেয়াদী ‘কর্পোরেট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিপিপিএ) -এর আওতায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে দেশে বছরে প্রায় ৭৬ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে জ্বালানি ব্যবস্থার অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে এবং বাংলালিংকের কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে বলে আশা করছেন অপারেটরটি শীর্ষ কর্মকর্তারা।

চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে বাংলালিংকের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিসার হুসেইন টার্কার বলেন, “বাংলালিংকে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফ্লোসোলারের সাথে অংশীদারিত্বে এ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের বড় আকারের নবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোর জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দূরদর্শিতার সঠিক সমন্বয়ে আমরা কম কার্বন নিঃসরণ ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব।”

ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, “আমরা দেশের টেলিকম অপারেটরদের পরিচ্ছন্ন, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  বাংলালিংকের সাথে আমাদের এ অংশীদারিত্ব এ প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উদ্ভাবনী প্রকল্প কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি কর্পোরেট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে আমরা একটি পরিমাপযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ সমাধান প্রদান করতে চাই, যা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতীয় লক্ষ্যপূরণে অবদান রাখবে।”