শাহজালাল বিমানবন্দরে একসঙ্গে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন ৩৭ হাজার যাত্রী

শাহজালাল বিমানবন্দরে একসঙ্গে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন ৩৭ হাজার যাত্রী
১৭ মে, ২০২৬ ১৭:০৩  
১৮ মে, ২০২৬ ০৭:২৮  

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক হতে চান হল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা। রাষ্ট্রীয় টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড- বিটিসিএল এর মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক থেকে একসঙ্গে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন ৩৭ হাজার যাত্রী। এজন্য তাদের বিটিসিএল ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট সিকিউরড নেটওয়ার্কের সংযুক্ত হতে ১২৩৪৫৬৭৮ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

বিমান মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ মে, রবিবার দুপুরে নিজেদের ব্যবহৃত ফোনে সংযুক্তির মাধ্যমে এই সেবার উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিমানবন্দরে ওয়াইফাই সেবা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সরেজমিনে তা পরিদর্শন করেন। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, বিটিসিএল সহ বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর টেলিযোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রী  ফকির মাহবুব আনাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আধুনিক, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা দেশের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে উন্নত মানের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছি। 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা তার আলোকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আপনারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো, যা দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। এই অর্জন কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি জনগণের সেবায় আমাদের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা বিমানবন্দর, রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে উন্নত ইন্টারনেট সেবা চালু করেছি।
প্রবাসী ও যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। গত আড়াই মাসে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। শিগগিরই তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দর এবং ছয়টি রেলস্টেশনে এই সেবা একযোগে চালু করা হয়েছে। এয়ারপোর্টের পার্কিং এলাকা থেকে শুরু করে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত কয়েক দিনে শুধু ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ২০ হাজারেরও বেশি যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় ২.৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে একসাথে প্রায় ১৮০০ ব্যবহারকারী সংযুক্ত রয়েছেন।

'আমাদের লক্ষ্য হলো সাধারণ যাত্রী—বিশেষ করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষ—যাতে সহজে, দ্রুত এবং বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারেন। চেক-ইন, ইমিগ্রেশন বা বোর্ডিং—সব পর্যায়ে যেন নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত হয়, সেটাই আমাদের অঙ্গীকার।
এই উদ্যোগ কেবল শুরু। আমরা ভবিষ্যতে আরও বিমানবন্দর ও পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে এই সেবা সম্প্রসারণ করব'- যোগ করেন উপদেষ্টা।

প্রসঙ্গত, এর আগে দেশের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও ৬টি রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ মখদুম বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর ভাই এবং যশোর বিমানবন্দর। পাশাপাশি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন, রাজশাহী রেল স্টেশন, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকা এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন-এ যাত্রীরা এখন বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারছেন।

ডিবিটেক/জেডিএস/ইকে