শেয়ারবাজার অংশীজনদের ষষ্ঠ মাসিক সমন্বয় সভায়

ই-কেওয়াইসি ও অসংশোধনযোগ্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যার বাস্তবায়ন

ই-কেওয়াইসি ও অসংশোধনযোগ্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যার বাস্তবায়ন
৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৩৯  

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৫ এপ্রিল, রবিবার পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমলেও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে। ডিএসইর সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১০৭ পয়েন্ট। এমন লেনদেনের মধ্যেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাথে অনুষ্ঠিত হলো পুঁজিবাজার অংশীজনদের ষষ্ঠ মাসিক সমন্বয় সভা। 

বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে সভায় পুঁজিবাজারে ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মাফিক উদ্যোগ গ্রহণ ও অসংশোধনযোগ্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনার হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, মোঃ আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মোঃ সাইফুদ্দিনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

সমন্বয় সভায় অংশ নেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ছিলেন সিসিবিএলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমান মজুমদারসহ অন্যান্যরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫; মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫—এই তিনটি বিধিমালার মাধ্যমে শেয়ারবাজারের আইনি সংস্কারের বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শিগগিরই কর্পোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত নতুন বিধিমালাও প্রণয়ন করা হবে। 

সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ আবুল কালাম জানান, সভায় শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল—শেয়ারবাজার উন্নয়নের চলমান উদ্যোগ, বাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে ইমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার পরিকল্পনা, ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়ন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানির জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ। 

এছাড়াও আলোচনায় উঠে আসে—প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর রেজিস্ট্রেশন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণ, নতুন পণ্য চালু ও বৈচিত্র্য আনা, বাজারে কারসাজি প্রতিরোধ, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তা এবং প্রাইস সেনসেটিভ ইনফরমেশনের যথার্থতা নিশ্চিতকরণ।

পাশাপাশি নেগেটিভ ইকুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের সমাধান এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুরক্ষা জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ডিবিটেক/এসএ/ইকে