চলতি সপ্তাহেই ‘হাইব্রিড সূচিতে’ ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত
ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, টেকনিক্যাল শিক্ষায় আলাদা জোর দরকার: শিক্ষামন্ত্রী
টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, “ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন আর টেকনিক্যাল এডুকেশন এক নয়। এই দুইটিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক না।” একইসঙ্গে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও মতবিনিময় ছাড়া ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম এর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী।
৫ এপ্রিল, রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের জবাবও দেন মন্ত্রী।
সভায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়ন, পলিসিগত প্রস্তাবনা এবং শিক্ষক ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং যুগোপযোগী করার পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করেন বক্তারা।
আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সারা দেশ থেকে আগত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও ভোকেশনাল শিক্ষকরা উপস্থিতিতে সভায় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর এক শিক্ষার্থী নিজের ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী ডিপ্লোমা ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন।
শিক্ষার্থী নিজেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারকে এক করে দেখা উচিত নয়।
মন্ত্রী জানান, তার মূল লক্ষ্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি সিঙ্গাপুর-এর ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, সেখানে প্রচলিত একাডেমিক যোগ্যতা ছাড়াই দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি নিজেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
শিক্ষার্থীরা আলোচনায় জানান, দেশে পলিটেকনিক শিক্ষায় প্রায় ৫৯ শতাংশ প্র্যাকটিক্যাল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ঘাটতি রয়েছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও ল্যাব পরিদর্শনে গিয়ে প্রত্যাশিত বাস্তব চিত্র পাননি। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “কাজির গরু কেতাবে আছে, খাতায় আছে—গোয়ালে নেই।”
পরে ওই শিক্ষার্থী বাস্তবায়ন উন্নয়নে সহায়তা চাইলে মন্ত্রী বলেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রূপান্তর করা যেতে পারে এবং আলাদাভাবে টেকনিক্যাল স্কুল গড়ে তোলা প্রয়োজন। কারণ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল শিক্ষা একসঙ্গে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
সভা শেষে তিনি আবারও বলেন, দেশের টেকনিক্যাল শিক্ষাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব দক্ষতা অর্জন করে আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
এর আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অর্থাৎ সশরীর ও অনলাইন—মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাস হবে কি না বা অন্য কোনো ব্যবস্থা হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। তার আগে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন যে স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলে আলোচনা সাপেক্ষে অনলাইন অফলাইন কিভাবে এটাকে সিস্টেমটিক ডিস্ট্রিবিউশন করা যায় সে ব্যাপারে। আমরা এখনও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসতে পারি নাই।
"কাল পরশু স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসে এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এবং সেটা আমরা ক্যাবিনেটকে অবহিত করব। তারপরে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নিবেন যে এই বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হতে পারে।"
অবশ্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, তারাও মনে করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া কঠিন। এ জন্য খোলা রেখে কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, সেই চিন্তা তাদেরও আছে। তবে সিদ্ধান্তটি আসবে মন্ত্রিপরিষদ থেকে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউআইএম



