আয়কর নির্ধারণে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল এনবিআর
আয়কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এখন থেকে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা’ (ASYCUDA) সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সে লক্ষ্যে ৪ মার্চ, বৃহস্পতিবার এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগ একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় আয়কর অনুবিভাগের অধীনস্থ সকল কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের করদাতাদের আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত মূল্য এবং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য যাচাই করতে হবে। এজন্য কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা’ সিস্টেমের বিজনেস ইন্টেলিজেন্স বা বিআই সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করা এখন বাধ্যতামূলক।
নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর অডিট মামলার জন্য নির্বাচন, আয়কর আইন অনুযায়ী কোনো কর মামলা পুনঃউন্মোচনের অনুমোদন প্রদান কিংবা ত্রুটিপূর্ণ করাদেশ সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তাদের এই সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। কোনো করদাতা আমদানিকারক হলে তার আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, পণ্যের মূল্য এবং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে তা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। বর্তমানে এনবিআরের কর কমিশনার এবং পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তারা তাদের নির্ধারিত কম্পিউটার থেকে এই সার্ভারে লগইন করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি কর নির্ধারণী কর্মকর্তাদের এই সুযোগ না দিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত এই তথ্য নিয়মিতভাবে একটি নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগের ফলে আয়কর মামলা নিষ্পত্তির সময় করদাতার আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, মূল্য এবং অগ্রিম আয়করের প্রকৃত তথ্য যাচাই করা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও নির্ভুল হবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রক্রিয়ায় করদাতাদের অগ্রিম আয়কর ‘ক্রেডিট’ দেওয়া সম্ভব হবে এবং আয়কর রিফান্ড প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে এই সমন্বিত প্রক্রিয়ায় কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করা যাবে, যা পরোক্ষভাবে জাতীয় রাজস্ব আদায়কে আরও বেগবান করবে। প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া এনবিআরের এই পদক্ষেপ আয়কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিবিটেক/এসএমইএইচ/এমইউএম







