বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে ‘দুর্বল’ ইনটেক

বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে ‘দুর্বল’ ইনটেক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১০:০৮  
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:১০  

বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন) এর পর পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত আরেকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠন ইনটেক লিমিটেড দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে। শেয়ারদর গত সপ্তাহে ৬০ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৩০ পয়সায়, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২৮ টাকা ২০ পয়সায়। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাত্র ১৮ দিনেই ইনটেকের শেয়ার দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

ডিএসই‘র সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকা বলছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে (৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার) শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিডিকমের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর আগে ১৭-২৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিলো প্রযুক্তি খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান আইএসএন। কোম্পানিটির তখন শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছিলো ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। 

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসএন এর মতো ‘ডিজিটাল সেবার সুরক্ষিত পার্টনার’ হয়ে তালিকাভূক্ত ইনটেক লিমিটেড দুর্বল আর্থিক ভিত্তির প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। বরং এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির শেয়ার পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে।

এরইমধ্যে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এই দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তবে এই সতর্কতায় কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা থামেনি।  পুঁজিবাজারের লেনদেনের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৭ আগস্ট কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ ১৮ দিনের ব্যবধানে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ১১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ যদি কোনো বিনিয়োগকারী গত ১৭ আগস্ট ইনটেক লিমিটেডের ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেন, তাহলে ৪ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে তার বাজার মূল্য ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকায় পৌঁছেছে। সেই হিসাবে ১০ লাখ টাকা খাটিয়ে ১৮ দিনেই মুনাফা পাওয়া গেছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার বেশি।

কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ তিন মাসের ব্যবসায় কোম্পানি শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ১১ পয়সা। আর ২০২৪ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৯ পয়সা লোকসান হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ইনটেক লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২৮ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৩৫ পয়সায়।  

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের দশমিক ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ইনটেক লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৫ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ইনটেকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ২১ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ইনটেক লিমিটেড। আলোচ্য হিসাব বছরে ইনটেকের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৭৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৩ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ইনটেক লিমিটেড। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৭৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৭ পয়সায়।

প্রসঙ্গত, ইনটেক লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার ২২৬। এর ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ২২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫২ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে লোকসানি আইএসএন