স্মার্ট কৃষি গবেষণায় ছাত্রদল নেতা আলমগীরের সাফল্য, পিএইচডিতে ৩.৮৭ জিপিএ

স্মার্ট কৃষি গবেষণায় ছাত্রদল নেতা আলমগীরের সাফল্য, পিএইচডিতে ৩.৮৭ জিপিএ
১৪ মে, ২০২৬ ১৬:১২  

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের পিএইচডি প্রথম সেমিস্টারের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ৪-এর মধ্যে ৩.৮৭ জিপিএ অর্জন করেছেন।

এমন সময়ে এই সাফল্য এসেছে, যখন দেশের ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা বেশি দেখা যায়। “রাজনীতি করলে পড়াশোনা হয় না”—প্রচলিত এই ধারণার বিপরীতে এক ভিন্ন উদাহরণ তৈরি করেছেন আলমগীর কবীর।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা আলমগীর কবীর মফস্বলের সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কৃষকের জীবনসংগ্রাম, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং খাদ্য নিরাপত্তার সংকট তাকে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী করে তোলে।

বর্তমানে তিনি অধ্যাপক ড. সফিউল্ল্যাহ মজুমদার কিরণের তত্ত্বাবধানে “স্মার্ট ক্লাইমেট এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি” নিয়ে গবেষণা করছেন। তার গবেষণার মূল লক্ষ্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

আলমগীর কবীর মনে করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ শুধু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কৃষকদের জন্য কম পানি ও কম খরচে উৎপাদন ধরে রাখতে সক্ষম প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও জলবায়ু বিশ্লেষণের ব্যবহার নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সাংগঠনিক ব্যস্ততার পাশাপাশি গবেষণা ও পড়াশোনায় ধারাবাহিক মনোযোগ ধরে রেখেছেন বলে জানান তার সহপাঠীরা। দিনের বড় অংশ সংগঠনের কাজে ব্যয় হলেও রাতেই তিনি গবেষণা, ফিল্ডওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক রেফারেন্স স্টাডিতে সময় দেন।

আলমগীর কবীরের ভাষ্য, ছাত্ররাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; এটি নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সমাজ সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষিত ও গবেষণামুখী নেতৃত্ব ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য “স্মার্ট ক্লাইমেট এগ্রিকালচার” এখন সময়োপযোগী গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র। এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সহপাঠী ও শিক্ষকদের মতে, বিএম আলমগীর কবীরের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি ছাত্ররাজনীতি ও একাডেমিক উৎকর্ষ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

ডিবিটেক/এমআই/এমইউএম