এআই এর ব্যবহার দেখানো হলো আন্তর্জাতিক হার্ট ফেলিউর কনফারেন্সের পি-কনফারেন্স

এআই এর ব্যবহার দেখানো হলো আন্তর্জাতিক হার্ট ফেলিউর কনফারেন্সের পি-কনফারেন্স
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৫  

আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেলো রাজধানীতে অনুষ্ঠিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেলিউর কনফারেন্সের পি-কনফারেন্স কর্মশালায়। বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সহযোগিতায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ আয়োজনে  রাজধানীর বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ২৯ মার্চ, রবিবার বিএমইউ শুরু হয় দুই দিনব্যাপী সম্মেলন। সম্মেলনে এআই বেইজড মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট, কার্ডিয়াক এমআরআই, এবং এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল বায়োপসি প্রযুক্তির ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে হৃদরোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধনীতে বক্তব্য রাখেন বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রারম্ভিক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন। 

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এআই-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত প্রবন্ধ পাঠ করেন মালয়েশিয়ার ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতান কাভেরি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এভারকেয়ার হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোঃ আতাহার আলী।

কর্মশালায় বক্তারা জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তি হার্ট ফেইলিউর রোগী দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক নির্ণয় এবং ঝুঁকি নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি, কার্ডিয়াক এমআরআই হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতা নির্ভুলভাবে মূল্যায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এআই এবং আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যুগের সূচনা করেছে।’

দিনের দ্বিতীয় ভাগে কার্ডিয়াক এমআরআই বিষয়ক সেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মনজুর মাহমুদ এবং ভাইস-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাফর ইকবাল জামালী। এ সময় প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জুরিচের অধ্যাপক ডা. রোবার্ট মানকা, বিএমইউর হার্ট ফেইলিউর ডিভিশনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীনে মুজাহীদ মোঃ ফারুক ওসমানী এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাহিদুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং নিওন্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নানসহ খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে প্রযুক্তির সুফল ও সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং নতুন যুগের সূচনার ওপরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।

এ সময় প্রযুক্তির সুফল ও সম্ভাবনা নিয়ে বল হয়, এআই টুলগুলো দ্রুত বৃহৎ ডেটাসেট বিশ্লেষণ করতে সক্ষম, যা বিশেষত জটিল পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। কার্ডিয়াক এমআরআই উচ্চ রেজোলিউশনের, নন-ইনভেসিভ ইমেজিং প্রদান করে, যা হার্ট ফেইলিউর রোগীদের নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং এতে কোনো রেডিয়েশন এক্সপোজার নেই।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে বলা হয়, এই প্রযুক্তিগুলোর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে বিনিয়োগ করতে হবে। ওয়ার্কশপে বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, উন্নত কার্ডিয়াক ইমেজিং সেন্টার স্থাপন, এমআরআই-সামঞ্জস্যপূর্ণ সফটওয়্যার ও এআই টুলের প্রাপ্যতা, এবং স্থানীয় জনগণের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

নতুন যুগের সূচনার বিষয়ে বলা হয়, এই ওয়ার্কশপটি প্রযুক্তিনির্ভর কার্ডিওলজি চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এআই এবং কার্ডিয়াক এমআরআইর সমন্বয় হার্ট ফেইলিউর নির্ণয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে সহায়তা করবে এবং রোগীদের চিকিৎসায় নতুন পথ প্রশস্ত করবে।

বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন দেশের কার্ডিওভাসকুলার চিকিৎসার মান এবং রোগীর ফলাফলকে ব্যাপকভাবে উন্নত করতে সক্ষম হবে। 

ডিবিটেক/এমআই/ইকে