কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকটে মার্চে ভোগাবে ‘কিউলেক্স’

কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকটে মার্চে ভোগাবে ‘কিউলেক্স’
৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০৪  
৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০৫  

রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার সংখ্যা কিছুটা কমলেও ‘কিউলেক্স’ মশার সংখ্যা আগামী মার্চ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কীটতত্ব বিশেষজ্ঞরা। কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকটের কারণে নতুন প্রজাতির মশার এই প্রাদুর্ভাবে রাজধানীবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে বলেও মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

৩ জানুয়ারি, শনিবার ডিআরইউতে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘মশার উপদ্রব ও নাগরিক ভোগান্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এমন সতর্ক বার্তা দিলেন আলোচকরা। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ডুরার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা নতুন সাতজন সদস্যকে বরণ এবং টেলিভিশন ও পত্রিকার সেবা খাতের তিনজন সাংবাদিককে সদস্যপদ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানেই। নতুন সদস্যদের মধ্যে বরণ করে নেওয়া হয়– বাংলা ট্রিবিউনের আতিক হাসান শুভ, একুশে টেলিভিশনের ইমন চৌধুরী, বাসসের রহমান নাযীদ, কালবেলার শাহ নেওয়াজ সুমন, এটিএন নিউজের শেখর আজাদ, বাংলানিউজ২৪-এর মিরাজ মাহবুব ইফতি ও দৈনিক নয়াদিগন্তের জিলানী মিলটনকে।

এর আগে ডুরার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, কিউলেক্সের উত্থান ও এডিসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন– দুটিই প্রমাণ করে যে ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়; এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকট। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপেক্ষা করলে তার মূল্য দিতে হবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য দিয়ে। তবে একটি অস্বস্তিকর সত্য স্বীকার করতেই হয়– নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া ঢাকাকে মশামুক্ত করা অসম্ভব। 

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না, আবার নাগরিক উদাসীনতাও সমানভাবে দায়ী। বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, অব্যবহৃত পাত্র, খোলা পানির ট্যাংক– এসব ছোট অবহেলাই বড় বিপর্যয়ের জন্ম দেয়। বর্তমানে এডিস মশা কমলেও কিউলেক্স বাড়ছে এবং আগামী মার্চ মাসে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, এই ভোগান্তি নগরবাসীকে পোহাতে হবে। তাই এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সচেতন হওয়া জরুরি।

ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অপর আলোচক পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মশার সমস্যা থেকে সাময়িক নয়, স্থায়ী মুক্তি প্রয়োজন। অপরিকল্পিত নগরায়ন, বাসস্থান, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এই সমস্যার মূল অন্তরায়। পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ শুরু করলে পরবর্তী কোনো উদ্যোগই কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাধ্যতামূলক; এটি ছাড়া কোনো উদ্যোগই কার্যকর হবে না। 

তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, ডেঙ্গু বা মশার উপদ্রব কমাতে সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসস্থান ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি, তবে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফলতা সম্ভব নয়। সবাই মিলে চেষ্টা করলে মশামুক্ত ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

অপরদিকে মশা নিধনে গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ডিএনসিসির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব বলেন, আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক ওষুধ ছিটানো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কাজ করছি। মৌসুম অনুযায়ী কার্যক্রমের গতি নির্ধারণ করা হয়। সামনে কিউলেক্স মশা বাড়তে পারে– এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এক মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

মশায় ভোগান্তির শিকার ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, মশা কী ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ আমি নিজেই। কয়েক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর আগের মতো শারীরিক সক্ষমতা আর ফিরে পাইনি। এখন দুই মিনিট হাঁটলেই থেমে যেতে হয়। তাই ডেঙ্গু হোক বা কিউলেক্স– সব ধরনের মশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে, নইলে জনভোগান্তি কমবে না।

ডিবিটেক/ডিপিও/ইএইচ