দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা

দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা
২২ মার্চ, ২০২৬ ২৩:১৪  

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

২২ মার্চ, রবিবার রাতে এক পোস্টে এ কথা জানায় সংগঠনটি। 

সংগঠনের ফেসবুক পেজের বার্তায় বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কারণ তারা অয়েল কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে তেল পাচ্ছে তা দিয়ে বর্তমানে ক্রেতাদের যে চাহিদা সেটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন বাস্তবতা এমন যে দেশে যে কোটি কোটি মোটরসাইকেল চালক বা ব্যবহারকারী আছেন, তারা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত, বিরক্ত এবং তিক্ত হয়ে পড়ছেন একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলোর তেল প্রদানকারী নজেলম্যান যারা এই বিরক্ত ক্রেতাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, গন্ডগোল করতে করতে আর পেরে উঠছে না।

ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, আসলে এভাবে বিরামহীন ডিউটি কারার অভ্যাসও তাদের নেই। সব মিলিয়ে অবস্থা এখন এমনই হয়ে পড়েছে, যে কোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও গণমাধ্যমে এই শঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। 

এর আগে, ‘পেট্রোল পাম্পের তেল বিক্রিতে নিরাপত্তার প্রয়োজন’ বলে সংগঠনটি জানায়। তবে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি। স্বাভাবিক হিসাবে এই মজুত কয়েকদিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। 

এই পরিস্থিতিকে তারা এক ধরনের লুটতরাজ বলে উল্লেখ করেছেন।

একেকজন দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে তারা জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করছে পাম্পগুলো। কিন্তু অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে। এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে; ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের আগের দিন রাতে অনেক পেট্রোল পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি। জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল লিফটিং (সংগ্রহ) বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

ডিবিটেক/এসএমইএইচ/এমইউএম