ভবন না ছাড়লে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা ২১তম দিনে গড়াল আন্দোলন

ভিসির আল্টিমেটাম: তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করায় চুয়েটে শিক্ষার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি

  • তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশে উত্তপ্ত  চুয়েট ক্যাম্পাস
  •  নতুন ভিসিকে ভবন ছাড়তে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের
  • নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ভিসি ভবন ভ্যাকেন্ট ঘোষণা, তালাবদ্ধকরণ এবং বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুঁশিয়ারি

ভিসির আল্টিমেটাম: তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করায় চুয়েটে শিক্ষার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচিতে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উপাচার্যকে ভবন ত্যাগ করতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

১২ অক্টোবর, সোমবার  সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। প্রধান ফটকে নিজেকে কেবল একজন ‘শিক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং পরে উপাচার্য ভবনের ফটকে দেওয়া তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে কিছু লোক ও চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়।

তবে কুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ দাবি করেন, উপাচার্য যখন দপ্তরে প্রবেশ করেন তখন তারা সেখানে ছিলেন না, বরং তিনি ভিসি আসার খবর শুনে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন।

উপাচার্যের এভাবে দপ্তরে প্রবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ কবির বলেন, তাদের এক দফা দাবি হলো সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মো. সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি চলবে। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা সাবনাম সংশ্লিষ্টদের আপত্তি উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণবও একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তালা ভেঙে উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে জানতে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বশীরের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন।

নানামুখী প্রতিবাদের মুখে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও আন্দোলনের কারণে তিনি এতদিন ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। এরমধ্যে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা সেটিরও প্রতিবাদ জানান। টানা ২১ দিনের অচলাবস্থায় চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে এবং সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্ধারিত আল্টিমেটামের মধ্যে ভিসি ভবন না ছাড়লে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

//ডিবিটেক/ক্যাম্পাস করেসপন্ডেন্ট/এসএমই/এমভিএনও//