দুর্যোগ মোকাবিলায় একসাথে ইডটকো-বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে গতি আনতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে সম্প্রতি ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) সুনীল আইজ্যাক এবং বিডিআরসিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ বিষয়ক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে টেকসই সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে ইডটকো ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সৌর বিদ্যুৎ চালিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয় সহায়তা এবং সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালাবে প্রতিষ্ঠান দুটি। সংকটকালীন মুহূর্তে মানবিক সহায়তা ও জনগণকে সংগঠিত করার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা দিবে ইডটকো।
এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং সংকটকালীন মুহূর্তে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সেবা দ্রুত চালু করতে একসঙ্গে কাজ করবে প্রতিষ্ঠান দুটি।
দুর্যোগের সময় দ্রুত, নিরাপদ ও আরও সমন্বিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে যৌথ মহড়া, স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করবে উভয় পক্ষ।
ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল আইজ্যাক বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমাদের যে অভিন্ন লক্ষ্য, এই অংশীদারিত্ব তারই প্রতিফলন। ইডটকোর আছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা। অন্যদিকে রেড ক্রিসেন্টের রয়েছে মানবিক সহায়তা প্রদানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এই দুইয়ের সমন্বয়ে অধিক দুর্যোগ কবলিত অঞ্চল গুলোতে আমরা আগাম সতর্কবার্তা, নিরাপদে সরে যাওয়া, এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরে আনতে পারবো। সৌর বিদ্যুৎ চালিত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয় সহায়তা এবং সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সেইসব এলাকায় টেকসই সক্ষমতা গড়তে চাই, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একসঙ্গে আমরা আরও প্রস্তুত, নিরাপদ ও সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।”
ডিবিটেক/এমআর/ইকে







