সীমান্তজুড়ে ভূকম্পনের ধারাবাহিকতা

দেশে ৭৫ মিনিটে তিন ভূমিকম্প, ভোরেও কম্পন!

  • ৭৫ মিনিটে মিয়ানমার, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় তিন ভূমিকম্প
  • চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও ঢাকায় কম্পন অনুভূত
  • ভোরে ঢাকা থেকে ৪৪৩ কিলোমিটার দূরে ফের ভূকম্পন

দেশে ৭৫ মিনিটে তিন ভূমিকম্প, ভোরেও কম্পন!
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:১৪  

মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে মিয়ানমার, ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরায় তিনটি ভূমিকম্প এবং কয়েক ঘণ্টা পর আরও একটি ভূকম্পন—সীমান্তঘেঁষা একাধিক ভূকম্পনকেন্দ্রের এই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোর পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল। ৪ অক্টোবর, রোববার রাত ১২টা ১২ মিনিট থেকে রাত ১টা ২৭ মিনিটের মধ্যে প্রথম তিনটি কম্পন ঘটে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়; ত্রিপুরার ভূমিকম্পের কম্পন ঢাকাতেও অনুভূত হয়েছে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি ৪ অক্টোবর রাত ১২টা ১২ মিনিটে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় আঘাত হানে। ইএমএসসি এটির মাত্রা ৪ দশমিক ৯ জানিয়েছে। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও তা টের পাওয়া যায়।

তবে মিয়ানমারের সরকারি আবহাওয়া ও জলবিদ্যা দপ্তর একই ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ০ জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে মিয়ানমারের ম্রাউক-উ শহরের প্রায় ২৩ মাইল পূর্ব-উত্তর-পূর্বে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির পর্যালোচিত তথ্যেও একই সময়ের কাছাকাছি মিয়ানমারে একটি ভূমিকম্পের তথ্য রয়েছে। সংস্থাটি সেটির মাত্রা ৪ দশমিক ৬, গভীরতা ১২০ কিলোমিটার এবং অবস্থান মিয়ানমারের ম্রাউক-উ এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বলে উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যের মধ্যে মাত্রা ও অবস্থানে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

প্রথম কম্পনের প্রায় এক মিনিট পর ভারতের মিজোরামের লুংলেই এলাকায় ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয় বলে ইএমএসসির তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে জানানো হয়। এই কম্পনের প্রভাব চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়।

এরপর ৪ অক্টোবর রাত ১টা ২৭ মিনিটে ভারতের ত্রিপুরার ধলাই এলাকায় ৩ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির পর্যালোচিত তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ২৩ দশমিক ৭৫৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১ দশমিক ৯৯৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার। এটি আমরপুরের প্রায় ৪৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ছিল।

ত্রিপুরার এই কম্পনের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানানো হয়। এখন পর্যন্ত এসব ধারাবাহিক ভূমিকম্পে বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ৪ অক্টোবর, রোববার ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশেও আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গণমাধ্যমে সংস্থাটির তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ এবং এর উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৪৩ কিলোমিটার দূরে। সর্বশেষ কম্পনেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের চারপাশের ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে নিয়মিতই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির সাম্প্রতিক তালিকায় ১ অক্টোবর বাংলাদেশে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পও নথিভুক্ত হয়েছে, যার অবস্থান ঢাকা থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং গভীরতা ৩৬ কিলোমিটার ছিল।

ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রাথমিক হিসাবে মাত্রা, উপকেন্দ্র ও গভীরতায় সামান্য পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তাই একই ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার পরবর্তী পর্যালোচিত তথ্যকে চূড়ান্ত রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
//ডিবিটেক/জেএনও/এসএমপি/এমভিএনও//