প্রথম ইউনিটে শুরু পারমাণবিক বিক্রিয়া
রূপপুরে পৌঁছেছে দ্বিতীয় দফার বাড়তি ইউরেনিয়াম
- প্রথম ইউনিটের জন্য দ্বিতীয় দফায় বাড়তি জ্বালানি পৌঁছেছে রূপপুরে
- ১১ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু
- নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য সরকারের
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার মধ্যেই দ্বিতীয় দফার বাড়তি পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম পৌঁছেছে পাবনার রূপপুরে। রোববার, ১১ অক্টোবর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানির চালানটি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
এর আগের দিন, ১০ অক্টোবর শনিবার রাতে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষ কার্গো বিমানটি প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। এর আগে ২ অক্টোবর প্রথম দফার বাড়তি জ্বালানিবাহী বিমান দেশে আসে। দুই দফায় প্রথম ইউনিটের জন্য মোট ৪৮ বান্ডেল বাড়তি জ্বালানি আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান।
প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু
ইউরেনিয়াম রূপপুরে পৌঁছানোর দিনই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়। এ সময় পর্যন্ত কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যকরী পরামিতি নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী ছিল বলেও জানান তিনি।
সচিব বলেন, বিকিরণের মাত্রা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপগুলোতে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরামিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি জটিলতা দূর করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ধাপ বাকি রয়েছে।
নভেম্বরের শেষদিকে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভও ১১ অক্টোবরের এক বক্তব্যে প্রথম ইউনিট থেকে নভেম্বরের শেষদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
তবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হওয়া নয়। প্রথমে রিঅ্যাক্টরের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কারিগরি পরামিতি যাচাই করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; সব মিলিয়ে কেন্দ্রটির পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হবে।
//ডিবিটেক/এসসিপি/এমএসআই/এমভিএনও//





