আন্দোলনের ২০তম দিনে প্রবেশ

তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে চুয়েট নতুন ভিসি

  • সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন ও কর্মবিরতি চলছে
  • প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম
  • ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে

তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে চুয়েট নতুন ভিসি
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৭  

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান শাটডাউন ও কর্মবিরতির মধ্যে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। আন্দোলনের মধ্যে তার এভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর কয়েকজনকে তাকে চেয়ারে বসিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন উপাচার্যের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় থাকার কথা থাকায় এদিন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়মিত পাহারা দেননি। সেই সুযোগে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলে তাঁদের ধারণা।

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ১০ অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো।   

২০ দিনের আন্দোলনে অচল ক্যাম্পাস

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন পালন করছেন। অন্যদিকে, শিক্ষকদের কর্মবিরতিও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকা এবং শিক্ষাপঞ্জি পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে যোগদান করেন। তবে আন্দোলনের কারণে তিনি এত দিন ক্যাম্পাসে যাননি বলে ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ, অবস্থান, প্রতীকী কর্মসূচি এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে পাহারা দিয়েছেন। শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছে।

আগের দিনও অবস্থান কর্মসূচি

রোববার, ১১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একই দিনে প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভ শেষে এক সভায় আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয় স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি এবং সম্ভাব্য সেশনজট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে, উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের সমাধান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছে না।

এ অবস্থায় নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালুর বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

//ডিবিটেক/সিজিএইচ/এসপিএম/এমভিএনও//