পোশাকের ট্যাবু ভাঙার উদ্যোগ
যবিপ্রবিতে ‘সংস্কৃতির সমতা’ লুঙ্গি প্যারেড
- পোশাককেন্দ্রিক সামাজিক ট্যাবু ও শ্রেণিবৈষম্য দূর করতে প্যারেডের আয়োজন
- লুঙ্গি, শাড়ি, ফতুয়া ও গামছা পরে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- আয়োজনে নেতৃত্ব দেয় যবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের একটি সাহিত্যভিত্তিক কোর্স
লোকজ পোশাকের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এবং পোশাকের ভিত্তিতে তৈরি শ্রেণিবৈষম্য দূর করার বার্তা নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’। ‘সংস্কৃতির সমতা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় লুঙ্গিসহ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাককে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সামাজিক সমতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
১১ অক্টোবর, রবিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ‘লার্নিং ল্যাঙ্গুয়েজ থ্রু লিটারেচার’ কোর্সের উদ্যোগে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাম একাডেমিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক ধরে শোভাযাত্রাটি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে আবার মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা লুঙ্গি, শাড়ি, ফতুয়া ও গামছা পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “পোশাক নয়, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলাবোধ দিয়েই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয়। পোশাক কেবল সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে, কিন্তু তা কখনোই একজন মানুষের একক পরিচয় হতে পারে না।”
তিনি ব্যতিক্রমী এ প্যারেডের আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ইংরেজি বিভাগের এমন উদ্ভাবনী ও প্রশংসনীয় কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের মতে, সমাজে নির্দিষ্ট কিছু পোশাককে ‘অভিজাত’ এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পোশাককে ‘নিম্নমানের’ হিসেবে বিবেচনা করার সংকীর্ণ মানসিকতা রয়েছে। সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ ও পোশাকভিত্তিক সামাজিক বিভাজন দূর করতেই ‘সংস্কৃতির সমতা’ প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো সংস্কৃতি বা পোশাকই ছোট নয়—সব ঐতিহ্যকে সমান সম্মান দেওয়াই এ প্যারেডের মূল বার্তা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মরিয়ম জামিলা, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফারজানা নাসরিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুনিবুর রহমান, ড. ফারহানা ইয়াসমিন, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
//ডিবিটেক/এনএইচএন/এসএমপি/এমআইএসটি//





