মাইক্রোসফটসহ শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড কার্যক্রম স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, সফটওয়্যার নির্মাতা অ্যাডোবি এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সেবামাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ এবং স্থানীয় মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান রক্ষার কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোম্পানিগুলোর নতুন কোনো স্থায়ী শ্রম বা পার্ম আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং চলমান আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও আপাতত বন্ধ রাখা হবে।
এই স্থগিতাদেশের তালিকায় কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের সুযোগ দিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে মাইক্রোসফট।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের সংস্থায় জমা পড়া আবেদনগুলোর সিংহভাগই নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়, বরং বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা তাদের কাজের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নতুন এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদনগুলোতে এককালীন এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ নামের একটি বিশেষ তদারকি অভিযান শুরু করা হয়েছিল।
শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি
কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং দেশটির সেরা কিছু গবেষণাধর্মী ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির মতো বিশ্বসেরা ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর বা আবাসন ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে সরকারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি প্রভাব, অনুপযুক্ত আর্থিক লেনদেন এবং ভিসা সংক্রান্ত নিয়মের ব্যত্যয় ফেডারেল অনুদানে পরিচালিত গবেষণাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই বহুমুখী ও কঠোর পদক্ষেপে দেশটির প্রযুক্তি খাত এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





