খুলনায় বেপরোয়া অপরাধীরা, বেড়েছে খুন-খারাবি
খুলনা: আক্তার ঢালী (৬০)। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চলতি বছরের ৫ অক্টোবর। রাতে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল শহীদের মোড় ঢালী বাড়ির সামনে একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট আক্তার […] The post খুলনায় বেপরোয়া অপরাধীরা, বেড়েছে খুন-খারাবি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

খুলনা: আক্তার ঢালী (৬০)। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চলতি বছরের ৫ অক্টোবর। রাতে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল শহীদের মোড় ঢালী বাড়ির সামনে একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকেও নৃশংসভাবে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা— এমন ঘটনা যেন খুলনার জন্য নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ৪ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইজখানা এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে পূর্ব-বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (পিবিসিপি) নেতা মো. নাসিমুল করিমকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে খুলনার দৌলতপুর থানার কুলিবাগান বটতলার অদূরে একটি অফিসের সামনে জলিল মুন্সি (৩৫) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তার তিন দিন আগে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর তালুকদার কমিউনিটি সেন্টারের কাছে মোস্তাকিন (২৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
খুলনা জেলা পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীতে শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিষয় উঠে এসেছে। আর এতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ, পারিবারিক কলহ, রাজনৈতিক বিরোধ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও পুলিশের দাবি, জেলা ও নগরীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
জেলা ও মহানগর নিয়ন্ত্রণে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ
খুলনা মহানগর ও জেলায় এখন নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম বেশি আলোচিত। সেগুলো হলো- রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, হুমায়ুন কবীরের হুমা বাহিনী, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, ট্যাংকি শাওন গ্রুপ, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ ও নাসিম গ্রুপ।
বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
খুলনায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তারা। খুলনা মহানগরীতে টিপসি বয়েজ, ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ, কিং অব রূপসা ও টাইগার টিম নামের পাঁচটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে।
কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
খুলনার অপরাধ দমনে খুলনা জেলা পুলিশ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি ৬) কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। এ ছাড়া, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
নগরবাসীরা যা বলছেন
খুলনা নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা আরাফাত হোসেনের সঙ্গে কথা হয় সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘এক সময়ের শান্তির নগরী খুলনা এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাইরে বের হলে মনের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই ও নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।’
নগরীর গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল কবির সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নগরবাসী বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। দিন দিন অপরাধীরা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত তাদের দমন করা প্রয়োজন।’
নাগরিক সমাজের ভাষ্য
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মূলত ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত সরকার এলেও এখন পর্যন্ত খুলনার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। খুলনার বিভিন্ন উপজেলা ও নগরীতে প্রায়ই মানুষ খুনের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন জায়গায় অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে খুলনায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। এটা একেবারে লাগামছাড়া বলা যায়। সেখানেই মূলত ব্যবহৃত হচ্ছে কিশোররা। অভাবগ্রস্থ বা বস্তি এলাকার ছেলেরা এসব গ্যাংয়ের সদস্য। এ ছাড়া, অনেক শিক্ষিত পরিবারের কিশোরেরা এসব গ্যাংয়ের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধীচক্র সবসময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডগুলো করে থাকে। যদি রাজনীতিকে পরিছন্ন করা যায় এবং প্রশাসনকে স্বচ্ছ জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার জায়গায় আনা যায় তাহলে অবরাধপ্রবণতা কমে যাবে।’
যা বলছে পুলিশ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘নগরীর একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরা হয়েছে। অপরাধ কমাতে টহল বৃদ্ধি ও জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করব।’
The post খুলনায় বেপরোয়া অপরাধীরা, বেড়েছে খুন-খারাবি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





