আন্দোলনের মুখে স্থগিত পরীক্ষা ও ল্যাব

চুয়েটে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে ড. আরাফাত

  • ভার্চুয়ালি দায়িত্ব পালনরত উপাচার্য ঢাকায় যাওয়ায় দুই দিনের জন্য এই অন্তর্বর্তী নিয়োগ
  • সাবেক উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অনড় শিক্ষকেরা
  • কমপ্লিট শাটডাউনে প্রকৌশল বিভাগের পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে একাডেমিক অচলাবস্থা

চুয়েটে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে ড. আরাফাত
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০  

দেশের অন্যতম প্রধান প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের টানা তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক কার্যক্রমে এসেছে নতুন মোড়। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে ভার্চুয়ালি দায়িত্ব পালনরত উপাচার্যের জরুরি ঢাকা সফরের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান। ৯ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রেরিত এক দাপ্তরিক ই-মেইল বার্তায় তাকে দুই দিনের জন্য এ অন্তর্বর্তী দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় অবস্থান করবেন বিধায় ড. আরাফাত রহমানকে এই রুটিন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী তাদের লাগাতার আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এর সাথে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দ্রুত স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ ও ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকেরাও।

মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে পাহারা বসায় এবং সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে শারীরিকভাবে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে দূরবর্তী মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন। এর পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিত কর্মবিরতি ও প্রতিবাদী কর্মসূচির কারণে চুয়েটের সার্বিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি প্রকৌশল বিভাগের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে। চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে নিয়মিত ক্লাস ও গবেষণাগারের ব্যবহারিক ল্যাব পরীক্ষা। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্তু ও ধাতব কৌশল এবং মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চলমান পরীক্ষাগুলো মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের সেমিস্টার পাঠদান শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

একই সঙ্গে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ শাটডাউনের কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহ জানান, শিক্ষকেরা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে এখনো অটল অবস্থানে রয়েছেন। সরকার দ্রুত এ সংকটের সম্মানজনক সমাধান দেবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, সংকট না মিটলে আগামী সপ্তাহে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা ডেকে আন্দোলনের পরবর্তী কঠোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

//ডিবিটেক/সিএইচএমজি/এসএমই/এমআইএসটি//