শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসা অপব্যবহারের তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত

  • স্থানীয়দের কর্মসংস্থান রক্ষা ও জালিয়াতি রোধে মাইক্রোসফটসহ আইটি কোম্পানিগুলোর স্থায়ী অভিবাসন স্থগিত
  • এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসা অনিয়মের অভিযোগে হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডসহ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু
  • বছরে চার হাজার কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খাতসহ গবেষণা অর্থনীতিতে বড় সংকটের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫২  

বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা অবকাঠামোকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে শীর্ষ টেক জায়ান্টগুলোর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। স্থানীয় আমেরিকানদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধের কারণ দেখিয়ে মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডের মতো ৯টি শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে ০৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটের চেয়ে বেশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার আর কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, মাইক্রোসফট গত বছর ছয় হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পরও ছয় হাজার তিনশতটি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় তিন হাজার গ্রিন কার্ড সুবিধার আবেদন করেছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্যানুযায়ী, স্থায়ী লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় (পিইআরএম) সবচেয়ে বড় কর্পোরেট আবেদনকারী মাইক্রোসফট।

মার্কিন শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, এই কঠোর স্থগিতাদেশ কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির মতো বৈশ্বিক আইটি ও আউটসোর্সিং সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে এবং কোনো নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট দাবি করেছে, তাদের বিগত অর্থবছরের এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য, নতুন কর্মী আনার জন্য নয়। এছাড়া ভারতীয় আইটি শিল্প সংস্থা ‘নাসকম’ জানিয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বাড়িয়ে ইতিমধ্যে এইচ-১বি নির্ভরতা লক্ষণীয়ভাবে কমিয়ে এনেছে।

একাডেমিক খাতে এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসা সুবিধার অপব্যবহার করে কম বেতনে বিদেশি গবেষক ও কর্মী নেওয়ার অভিযোগে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন এবং এমআইটিসহ ৯টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্ত শুরু হয়েছে। শ্রম বিভাগের পরিদর্শক প্রধান অ্যান্টনি ডি’এসপোসিটো জানান, ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক সমন জারি করে নথিপত্র তলব করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব বা আর্থিক অনিয়ম রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান গবেষণার মান ও নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় চার হাজার কোটি ডলার (৪০ বিলিয়ন ডলার) সরাসরি অবদান রাখেন; তাই এ ধরনের পদক্ষেপে উচ্চশিক্ষা গবেষণা ও অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। প্রযুক্তি খাতে এমন বিধিনিষেধ জারির দিনেই ট্রাম্প কর্তৃক মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা ও টেসলা প্রধান ইলন মাস্ককে সম্মাননা দেওয়ার ঘটনাও প্রযুক্তি মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/রয়টার্স/ এসএমপি/বিপিও//