চিকিৎসায় অগ্রাধিকার ও ফলো-আপ সুবিধা
চীনে বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য গ্রিন চ্যানেল
- চীনে যাওয়ার আগেই চিকিৎসা পরামর্শ ও নথি পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি রোগীরা
- হাসপাতালে অগ্রাধিকার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, দোভাষী সহায়তা ও পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক থাকবে
- চিকিৎসক-নার্স প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের আহ্বান
চীনে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসার আগে পরামর্শ, হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং দেশে ফেরার পর ফলো-আপ সেবাসহ সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য প্রথমবারের মতো বিশেষায়িত এই ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতাল। এর আওতায় রোগীরা চীন সফরের আগেই চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা ও পরামর্শ নিতে পারবেন। হাসপাতালে থাকবে পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও দোভাষী সহায়তা। উদ্যোগটি দুই দেশের মধ্যে চক্ষু চিকিৎসা, চিকিৎসক-নার্স প্রশিক্ষণ এবং টেলি-কনসালটেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি করছে।
২৪ অক্টোবর, শনিবার চীনের কুনমিংয়ে অবস্থিত কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর ফলক উন্মোচন করেন। একই দিন তিনি ‘হুয়াশিয়া অপথ্যালমোলজি ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ২০২৬’-এরও উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং হুয়াশিয়া চক্ষু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ঝিইয়ং উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশি রোগীরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চীনে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার সুবিধা পাবেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাদের জন্য থাকবে পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দেওয়া হবে দোভাষী সহায়তা। চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরও রোগীরা ফলো-আপ চিকিৎসাসেবা পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং চক্ষু চিকিৎসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা, সেবার স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য এবং মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ব্যয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রোগীর মর্যাদা সমুন্নত রাখাই বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান প্রত্যাশা।
এ সময় তিনি বাংলাদেশি রোগীদের চীনে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও হুয়াশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে বাংলাদেশি চক্ষু চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন এবং বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশেই উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
নতুন ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালুর ফলে চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য প্রাথমিক পরামর্শ থেকে শুরু করে চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপ পর্যন্ত সমন্বিত সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলো। একই সঙ্গে চক্ষু চিকিৎসায় বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর পরামর্শ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
//ডিবিটেক/এনবিএন/এমএসআই/এসএপি//





