গবেষণায় দেশের শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় ঢাবির ২২ গবেষক স্থান
- স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ারের বৈশ্বিক শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা পেলেন ঢাবির ২২ শিক্ষক
- সাইটেশন ও এইচ-ইনডেক্স মূল্যায়নে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি
- তরুণ গবেষকদের উৎসাহ ও আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিধি বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে
আন্তর্জাতিক একাডেমিক অঙ্গনে গবেষণা মানদণ্ড, সাইটেশন প্রভাব ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের স্বীকৃতিতে অনন্য উচ্চতা অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর বৈশ্বিক মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটির ২২ জন কৃতি শিক্ষক ও গবেষক মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করেছেন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক প্রভাবে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠ।
যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের এই বৈশ্বিক ডাটাবেজ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, বৈশ্বিক সাইটেশন সংখ্যা, এইচ-ইনডেক্স, সহ-গবেষকদের যৌথ অবদান এবং গবেষণার ধারাবাহিক প্রভাবকে সূচক হিসেবে আমলে নিয়ে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়। বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরিমণ্ডলে উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রভাবক হিসেবে এটি বিবেচিত।
২০২৬ সালের এই তালিকায় স্থান পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান হলো— মো. রাকিবুল হক (৪৬,১০৪), আবদুস সালাম (৫৩,৫০৩), মো. মাহবুবুর রহমান (৫৬,২৫৫), তসলিম উর রশিদ (৬৭,০৪৯), মুহাম্মদ ইব্রাহিম শাহ (৬৭,২৮০), এম. রেজাউল ইসলাম (৮৪,৪৮০), সুবর্ণ বড়ুয়া (৯৪,২০৭), নেপাল চন্দ্র রায় (১০১,৭৪৬), মো. কাওসার আহমেদ (১১২,৫৩১), সৈকত মিত্র (১২৪,২৯০), এম. এ. বি. এইচ. সুসান (১৪৭,১২১), মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম (১৫৬,৬৭০), মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (১৫৮,৯০৮), শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম (১৯৮,৭০১), মো. আবদুস সালাম (২০৬,৯১৮), খন্দকার সামাহের সালেম (২৫২,৬৯৫), মোহাম্মদ ফেরদৌস (২৭০,৫২৩), মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৩০৭,১৩১), মো. আব্দুর রাজ্জাক (৩৫০,৬৯১), এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল (৩৫৩,২৯৯), মো. আবদুর রশীদ (৩৯২,৫৩৬) এবং অর্ক জ্যোতি চক্রবর্তী (৭৪৩,৮৩৪)।
এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, বৈশ্বিক শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক ও গবেষকের স্থান পাওয়া অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান গবেষণার আন্তর্জাতিক মান ও কার্যকারিতার বাস্তব প্রতিফলন। এই অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও গবেষকদের অভিনন্দন জানান তিনি।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। গবেষকরা বৈশ্বিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে মানসম্মত গবেষণা করছেন, যা আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি লাভ করছে। বৈশ্বিক গবেষকদের তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার পরিসর ও মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক যৌথ গবেষণা সম্প্রসারণ এবং তরুণ গবেষক ও তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী কাজে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবদান সুসংহত করতে এ ধরনের গবেষণাবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এদিকে একই বৈশ্বিক মূল্যায়নের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের এক নম্বর গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে।
//ডিবিটেক/বিএনএন/এসএমপি/এমএসআই্//





