ইএসডিওর গবেষণার পর বৈজ্ঞানিক যাচাই শুরু

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিএসটিআই

  • ৩৪টির মধ্যে ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের দাবির তদন্ত শুরু
  • বিএসটিআই বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পুনঃপরীক্ষা করবে
  • প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা, গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিএসটিআই
২৮ জুলাই, ২০২৬ ২১:৫৪  

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার পর বিষয়টিকে 'অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে' বিবেচনায় নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ মান (বিডিএস) লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৮ জুলাই, মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার দাবি প্রকাশের পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জনগণকে গুজব বা অযথা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, টুথপেস্ট গিলে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

মান হালনাগাদের উদ্যোগ
বিএসটিআই জানিয়েছে, টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান (BDS) পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজনের মাধ্যমে বিদ্যমান মান হালনাগাদ করা হবে।

তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা পণ্যকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের ঘোষণা করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিএসটিআই জানায়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করলেও এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের Microbead-Free Waters Act-এর মাধ্যমে টুথপেস্টসহ রিনস-অফ কসমেটিকসে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদনকারীদের জন্য ২০২৭ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে।

তবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশের জাতীয় মান এবং আইএসও ও এএসটিএমের মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষাপদ্ধতি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

পুনঃপরীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহ
বিএসটিআই জানিয়েছে, গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষাপদ্ধতি, কাঁচা ডেটা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, শুধু পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা শনাক্ত হওয়া মানেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বিএসটিআই আরও জানিয়েছে, পুনঃপরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় কোনো পণ্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
//ডিবিটেক/ বিএনও/ এমএসআই//